‘সবাই বকা খেয়েছে, কিন্তু আমি…’ ইস্টবেঙ্গলকে ভারতসেরা করে বিদায়বেলায় কী বললেন অস্কার?

বাইশ বছরের খরা কাটিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে ভারতসেরা করেছেন। লাল-হলুদ জনতার কাছে তিনি এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা’। তবে ট্রফি জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে জল্পনা—আগামী মরশুমে কি অস্কার ব্রুজোঁ থাকবেন ইস্টবেঙ্গলে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যখন উত্তাল ময়দান, ঠিক তখনই স্পেনে উড়ে যাওয়ার আগে মুখ খুললেন অস্কার। মঙ্গলবার রাতে দেশ ছাড়ার আগে তিনি জানালেন, আপাতত কিছুদিনের বিশ্রাম নেবেন, তবে আগামী মরশুম নিয়ে ক্লাবের পরিকল্পনার উপরই নির্ভর করছে তাঁর সিদ্ধান্ত।

আগামী মরশুমে কি থাকবেন ইস্টবেঙ্গলে?
আগামী ১ জুন পর্যন্ত অস্কারের চুক্তির মেয়াদ। তার আগে ক্লাবের লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছেন তিনি। অস্কারের সাফ কথা, “আমি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি না, আমার কাছে অগ্রাধিকার হলো ক্লাবের রূপরেখা। ক্লাব আগামী মরশুমে স্বচ্ছ পরিকল্পনা দিলে আমি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেব।” তিনি স্বীকার করেছেন, ভারতের বাইরে থেকেও একাধিক প্রস্তাব তাঁর কাছে আসছে, কিন্তু জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি কোনও তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনের রসায়ন
দায়িত্ব নেওয়ার সময় দল যে খুব একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ছিল না, তা গোপন করেননি ব্রুজোঁ। তাঁর কথায়, “আমি যখন এসেছিলাম, ড্রেসিংরুম বিভক্ত ছিল। প্রথম কাজ ছিল সকলকে এক সুতোয় বাঁধা।” অস্কারের মতে, দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করেছে—ধারাবাহিক প্রস্তুতি, ইমামির বিশ্বাস এবং কাপ প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্স থেকে প্রাপ্ত আত্মবিশ্বাস। বিশেষ করে মুম্বই সিটির বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে জয়ী হওয়া ম্যাচটিকে তিনি দলের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

কোচিং কেরিয়ারের সেরা সাফল্য
ভারতের এই সাফল্যকে তিনি তাঁর কোচিং জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। মলদ্বীপ বা বাংলাদেশের লিগে ট্রফি জিতলেও, আইএসএল-এর মতো উঁচু মানের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া অনেক বেশি কঠিন ছিল। তিনি বলেন, “এখানে ভুলের সুযোগ নেই। কয়েকটা ভুল করলেই শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”

সুভাষ ভৌমিকের স্মৃতিচারণ
সাফল্যের শিখরে দাঁড়িয়েও তিনি ভোলেননি কিংবদন্তি সুভাষ ভৌমিককে। অস্কার জানান, ইস্টবেঙ্গল নিয়ে তাঁর প্রথম আলোচনা হয়েছিল সুভাষবাবুর সঙ্গেই। স্পোর্টিং গোয়ায় কোচিং করানোর সময় তাঁদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই শিরোপা তিনি প্রয়াত সুভাষ ভৌমিককেও উৎসর্গ করেছেন।

ফুটবলার জীবন চোটের কারণে সংক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ায় একসময় ব্যাংকের চাকরি করেছিলেন অস্কার। কিন্তু খেলার মাঠের টান তাঁকে বারবার ফিরিয়ে এনেছে। আজ জীবনের সেরা সাফল্যের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বিনীত। অস্কারের কথায়, “বাবা হকি খেলোয়াড় ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রম আর দলগত মানসিকতা শিখেছি।” এখন প্রশ্ন একটাই, আগামী মরশুমে কি ফের লাল-হলুদ ডাগআউটে দেখা যাবে এই স্প্যানিশ জাদুকরকে? উত্তর মিলবে জুনের প্রথম সপ্তাহে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy