পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য কামব্যাক! চেকিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে হুঙ্কার দক্ষিণ কোরিয়ার!

দক্ষিণ কোরিয়া মানেই এখন শুধু কে-পপ, অ্যানিমে বা আধুনিক জীবনযাত্রা নয়—বিশ্বমঞ্চে এই দেশটির নতুন পরিচয় ‘কামব্যাক কিংস’। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তাপের মাঝেই চেকিয়া রিপাবলিকের বিরুদ্ধে এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া প্রমাণ করে দিল, নকআউট পর্বের লড়াইয়ে তারা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।

ম্যাচের শুরুটা একেবারেই প্রত্যাশামতো ছিল না সন হিউন মিনের দলের জন্য। মাঠের দখল থাকলেও গোল করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছিল কোরীয় ফরোয়ার্ডরা। প্রথমার্ধেই অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল হাতছাড়া করে তারা বিপক্ষকে ম্যাচ জেতার সুযোগ করে দিয়েছিল। উল্টোদিকে, ডিফেন্সিভ রণকৌশল বজায় রেখে চেকিয়া বারবার কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করছিল। ৫৯ মিনিটে এই কৌশলেই বাজিমাত করেন চেকিয়ার ক্যাপ্টেন লাদিস্লাভ ক্রেজকি, যার গোলে পিছিয়ে পড়ে কোরিয়া শিবির।

তবে পিছিয়ে পড়ার পরেই আসল ‘কোরীয় স্পিরিট’ জেগে ওঠে। গোল খাওয়ার মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই হুয়াং ইন বিয়োমের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় দক্ষিণ কোরিয়া। ৭৭ মিনিটে চেকিয়ার টমাস সাউচেক হেডের মাধ্যমে গোল করার চেষ্টা করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়, যা ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ৮০ মিনিটের মাথায় ও হিউন গু-র অসাধারণ গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। এরপর ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি কোনো দলই।

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ এ-র সমীকরণ বেশ জটিল। মেক্সিকো তাদের প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে গোল পার্থক্যে আপাতত তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এই গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেকিয়া—চারটি দেশই একে অপরের কড়া প্রতিপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপের প্রথম দুটি দল সরাসরি রাউন্ড অফ ৩২-এ জায়গা করে নেবে।

কোচ এবং বিশ্লেষকদের মতে, আজকের ম্যাচে বল পজেশন এবং আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে সন হিউন মিনের দলের। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার টিকিট নিশ্চিত করতে হলে পরের ম্যাচগুলোতে গোল মিসের বিলাসিতা করা চলবে না। বিশেষ করে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে এই ভুলগুলো বড়সড়ো মাশুল দাবি করতে পারে।

তবে আজকের এই জয় কোরীয় ফুটবলারদের মনোবল যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা নিশ্চিত। মাঠের লড়াইয়ে যেভাবে পিছিয়ে থেকেও তারা ম্যাচে ফিরে এসেছে, তা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দারুণ উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। সন হিউন মিন এবং তাঁর দল কি ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় কোনো চমক দেখাতে পারবে? ভক্তদের নজর এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে, যেখানে জয়ই একমাত্র লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy