২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের ভরাডুবির কারণ কি তবে ক্রিকেটারদের ফিটনেস গোপন করা? পাক ক্রিকেট মহলে এখন এই প্রশ্নই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সোজাসাপ্টা অভিযোগ— খোদ অধিনায়ক বাবর আজম এবং বিধ্বংসী ব্যাটার ফখর জামান গুরুতর চোট লুকিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। আর এই বিস্ফোরক তথ্যের প্রমাণ মিলেছে খোদ মেডিক্যাল রিপোর্টে।
বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পরই জাতীয় টি-২০ প্রতিযোগিতায় খেলতে অস্বীকার করেন বাবর আজম। কারণ হিসেবে দেখান ‘হ্যামস্ট্রিং চোট’। একই সময়ে চোটের কারণে ছিটকে যান ফখর জামানও। তখনই নির্বাচক আকিব জাভেদ প্রশ্ন তুলেছিলেন— যে চোটের জন্য তাঁরা ঘরোয়া লিগ খেলতে পারছেন না, সেই চোট নিয়ে তাঁরা বিশ্বকাপে খেললেন কীভাবে?
মেডিক্যাল রিপোর্টে লুকানো সত্য
পাক ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) মেডিক্যাল প্যানেলের ডিরেক্টর ডাক্তার জাভেদ মুঘলের সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে:
আগে থেকেই চোট: টি-২০ বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময় থেকেই বাবর ও ফখরের শরীরে চোটের অস্তিত্ব ছিল।
অবস্থার অবনতি: বিশ্বকাপের ধকল সইতে গিয়ে সেই চোট এখন আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
রহস্যময় নীরবতা: আমেরিকা নিবাসী এই চিকিৎসকের রিপোর্টে স্পষ্ট ইঙ্গিত, চোটের কথা জানতেন দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অভিযোগের তির এখন সরাসরি দলের ফিজিওথেরাপিস্ট ক্লিফ ডিকনের দিকে। সূত্রের খবর, বাবর এবং ফখরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। মনে করা হচ্ছে, প্রিয় ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ করে দিতেই চোটের বিষয়টি নির্বাচকদের কাছে চেপে গিয়েছিলেন তিনি। অতীতেও ডিকনের বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের ছোটখাটো চোটকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে পিসিবি। ফিজিওর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। যদি প্রমাণিত হয় যে চোট লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তবে বাবর আজম ও ফখর জামানের পাশাপাশি ফিজিওর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় যখন এমনিতেই বিদ্ধ পাক দল, তখন এই ‘চোট-লুকোচুরি’ বিতর্ক পাকিস্তান ক্রিকেটের মুখ আরও পুড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।