ভারতীয় ফুটবলের চরম ডামাডোলের বাজারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এফসি গোয়ার (FC Goa) ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফরা। ক্লাবের আর্থিক সংকট মোচনে এবং দল যাতে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে পারে, তার জন্য নিজেদের চুক্তিবদ্ধ বেতন স্বেচ্ছায় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন সন্দেশ ঝিঙ্গান (Sandesh Jhingan), উদান্তা সিংদের মতো দেশের প্রথম সারির তারকারা।
কেন এই ‘সেলফলেস’ সিদ্ধান্ত? ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা ২০২৬ সালের আইএসএল (ISL) ঘিরে অনিশ্চয়তা তুঙ্গে। এআইএফএফ (AIFF) এবং এফএসডিএল (FSDL)-এর মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তির জটিলতায় লিগটি এবার সংক্ষিপ্ত আকারে আয়োজিত হচ্ছে। ম্যাচ সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বড় স্পনসর না থাকায় ক্লাবগুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গালুরু এফসি-র মালিক পার্থ জিন্দাল ফুটবলারদের ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে প্রথম দল হিসেবে নজির গড়ল এফসি গোয়া।
কী জানাল ক্লাব কর্তৃপক্ষ? এক বিবৃতিতে এফসি গোয়া জানিয়েছে, “ভারতীয় ফুটবলের এই কঠিন সময়ে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলোয়াড় ও টেকনিক্যাল স্টাফদের সঙ্গে সোজাসুজি কথা বলা হয়েছিল। তাঁরা সবাই একবাক্যে ক্লাবের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বেতন কমাতে রাজি হয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, তবে এটি তাঁদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার পরিচয়।”
পরিস্থিতি কতটা গম্ভীর?
-
বিদেশি প্লেয়ারদের বিদায়: আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে কেরালা ব্লাস্টার্স সহ একাধিক ক্লাবের বিদেশি ফুটবলাররা ইতিমধ্যেই আইএসএল ছেড়ে অন্য দেশের লিগে যোগ দিয়েছেন।
-
বিপুল আর্থিক ক্ষতি: অনেক ক্লাবই তাদের ফুটবলারদের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কমানোর অনুরোধ করেছে।
-
সংক্ষিপ্ত লিগ: এবারের আইএসএল মাত্র ৯১টি ম্যাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের আয়ের পথ অনেকটাই বন্ধ করে দিয়েছে।
সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন এবং আল-নাসরের বিরুদ্ধে লড়াই করা এফসি গোয়া যখন এই সাহসী পদক্ষেপ নিল, তখন প্রশ্ন উঠছে— এটিকে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল বা অন্য ক্লাবগুলোও কি একই পথে হাঁটবে?