আইপিএল ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ এলিমিনেটর ম্যাচে বুধবার যেন এক নতুন রূপকথা লিখলেন ১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ ওপেনার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলারদের ওপর যেভাবে তাণ্ডব চালালেন, তা আইপিএলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে মাত্র ৮ ওভারে ১২৫ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে বৈভব বুঝিয়ে দিলেন কেন তাঁকে ভবিষ্যতের মহাতারকা বলা হচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বৈভব ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দেন তিনি। মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করা বৈভবের ব্যাটিং দেখে হায়দরাবাদের বোলাররা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি যখন ২৯ বলে ৯৭ রানে ব্যাট করছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল ক্রিস গেইলের দ্রুততম শতরানের রেকর্ড আজ ভেঙে যাবে। কিন্তু প্রফুল্ল হিঙ্গের বলে আউট হয়ে মাত্র ৩ রানের জন্য সেই অনন্য মাইলফলক হাতছাড়া করেন এই প্রতিভাবান কিশোর।
বৈভবের আউট হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। যখন তিনি হতাশ মনে মাঠ থেকে ফিরছিলেন, তখন হায়দরাবাদের খেলোয়াড় অভিষেক শর্মা এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। তাঁর এই অবিশ্বাস্য প্রতিভাকে কুর্নিশ জানায় গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে কাব্য মারানের আচরণ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে থাকা এসআরএইচ মালকিন কাব্য মারানকে অত্যন্ত অনিচ্ছার সঙ্গে হাততালি দিতে। তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ছিল বেশ বিরক্তির। দলের পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে এমন আচরণ তিনি করেছিলেন কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। নেটিজেনদের মতে, দলের ঊর্ধ্বে উঠে কাব্য মারানের উচিত ছিল এই ১৫ বছরের কিশোরের অতিমানবীয় ব্যাটিংকে সম্মান জানিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই ক্রিকেটপ্রেমীরা কাব্য মারানের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন। একজন লিখেছেন, “সবকিছু কেনা গেলেও ‘ক্লাস’ কেনা যায় না।” বৈভবের ব্যাটিং যেমন ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করেছে, তেমনি মাঠের বাইরে কাব্য মারানের এই আচরণ এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তবে শতরান হাতছাড়া করলেও, বৈভব সূর্যবংশী যে আইপিএলের ভবিষ্যৎ, তা বুধবারের ইনিংসেই প্রমাণ করে দিয়েছেন।





