বিধানসভায় তুলকালাম! ‘একটা চোরকেও ছাড়া হবে না’, দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঙ্কার দিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

বিধানসভার অন্দরমহলে এদিন উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। তৃণমূল জমানার একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে আক্রমণাত্মক মেজাজে জবাব দিলেন, তা কার্যত নজিরবিহীন। এদিন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে তিনি আপসহীন। তাঁর কথায়, “একটাও চোরকে আর ছাড়া হবে না। বাংলার মানুষের লুঠ করা টাকা ফিরিয়ে আনতেই সরকার বদ্ধপরিকর।”
এদিনের অধিবেশনে দুর্নীতির ইস্যু নিয়ে বিরোধী দলনেতা তীব্র আক্রমণ শানান। মূলত সরকারি প্রকল্পে নয়ছয় এবং তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। পালটা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত চড়া সুরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “পূর্বসূরিদের কুকীর্তি আর আড়াল করা হবে না। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে আজ আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কেউই রেহাই পাবে না।”
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘোষণাটি ছিল দুর্নীতিবাজদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা প্রসঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, তার সরকার খুব শীঘ্রই এমন একটি কঠোর আইন আনতে চলেছে, যার মাধ্যমে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি সরাসরি সরকারের দখলে চলে আসবে। তিনি বলেন, “আমরা এমন আইনি কাঠামো তৈরি করছি, যাতে লুঠ করা টাকায় কেনা জমি, বাড়ি বা অন্যান্য সম্পদ রাজ্য সরকার বাজেয়াপ্ত করতে পারে। মানুষের টাকা মানুষের কাছেই ফিরবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে একের পর এক নথিপত্র পেশ করছেন, ঠিক সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘সম্পত্তি দখল’-এর হুমকি তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিধানসভার অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বারবার দাবি করেন, অতীতে যা হয়েছে তা আর বরদাস্ত করা হবে না। শাসকদলের বিভিন্ন স্তরে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপের পথেই হাঁটতে চলেছে বর্তমান প্রশাসন।
এদিনের বিধানসভার অধিবেশন ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুধু কথার লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং আইনি ব্যবস্থার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, দুর্নীতি দমনে কোনো রাজনৈতিক রং দেখা হবে না। বিধানসভার লবিতে এদিন শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের সদস্যদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, বাস্তব রূপায়ণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতাদের একাংশ এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে। সব মিলিয়ে, দুর্নীতির তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। তবে এদিন বিধানসভায় ‘চোরমুক্ত বাংলা’ গড়ার যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা কার্যত বিরোধীদের নথিপত্র পেশের পাল্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।