সঞ্জু-বৈভবের কেরিয়ার ধ্বংস করছে টিম ম্যানেজমেন্ট! ভারতীয় দলের সিদ্ধান্তে ফুঁসে উঠলেন কিংবদন্তি শ্রীকান্ত

বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেট দলে প্রতিভাবান ওপেনারদের কোনো অভাব নেই। আইপিএলের মঞ্চ থেকে শুরু করে জাতীয় দল—অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন ও বৈভব সূর্যবংশীর মতো তারকারা নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন। ওপেনিং পজিশনে অভিষেক শর্মা লাগাতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেও, বৈভব সূর্যবংশী দলে আসার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সঞ্জু স্যামসনের তুলনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড সফরে প্রথমবার ভারতের সিনিয়র দলে ডাক পান তরুণ তুর্কি বৈভব। আয়ারল্যান্ড সিরিজে পুরোটাই খেলেছিলেন সঞ্জু। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়ে তিনি ৫, ০ এবং ১ রানের বেশি করতে পারেননি। এরপর ইংল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় বৈভবের, যেখানে তিনি তিন ম্যাচে যথাক্রমে ১৪, ১৩ এবং ১৫ রান করেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে দলে ফিরে সঞ্জু করেন ২৭ রান। এরপর জিম্বাবুয়ে সফরে সঞ্জুকে বিশ্রাম দেওয়া হলেও বৈভব দুর্দান্ত ফর্মে থেকে ৫০, ২০ এবং ৮১ রানের ইনিংস খেলেন। কিন্তু এরপরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ফের দল থেকে বাদ পড়েন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের দল নির্বাচন নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। তাঁর পরিষ্কার অভিমত, নিয়মিত দল পরিবর্তন এবং বারবার ক্রিকেটারদের বসিয়ে রাখার নীতি খেলোয়াড়দের মানসিক মনোবলে মারাত্মক ধাক্কা দিচ্ছে। এর ফলে সঞ্জু স্যামসনের পাশাপাশি বৈভব সূর্যবংশীর আত্মবিশ্বাসও একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ইউটিউবে নিজের একটি শোতে ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রীকান্ত বলেন, “শুধু সঞ্জু নয়, টিম ইন্ডিয়া বৈভবের আত্মবিশ্বাসও ভেঙে দিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলের বিরুদ্ধে অন্তত ওকে তিনটে ম্যাচে সুযোগ দেওয়া যেত। অভিষেক তো দীর্ঘদিন ধরেই খেলছে, ওকে একটা সিরিজে বিশ্রাম দেওয়াই যেত। আগামী ম্যাচে সূর্যবংশী এবং স্যামসনকে ওপেনিংয়ে নামানো উচিত।”

পাশাপাশি, সঞ্জু স্যামসনের ফর্মের ওঠানামাকেও কাটাছেঁড়া করেছেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ে সঞ্জু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনবদ্য কয়েকটি ইনিংস খেললেও তারপর থেকেই তাঁর ব্যাটে খরা চলছে। এই প্রসঙ্গে শ্রীকান্ত বলেন, “স্যামসন কখনই ধারাবাহিক খেলোয়াড় নয়। ওর ফর্ম সবসময় ওঠা-নামা করে। ওর ধারাবাহিকতা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে, এখনও ওঠে। কখনও ও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দারুণ খেলে দেবে, আবার কখনও একটানা রান পাবে না। তবে অভিষেক শর্মার ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই এমন নয়।” গৌতম গম্ভীর ও শ্রেয়স আইয়ারদের মতো টিম ম্যানেজমেন্টের কর্তাদের একহাত নিয়ে শ্রীকান্ত সাফ জানিয়েছেন যে, বৈভব সূর্যবংশীর মতো প্রতিভাবান তরুণকে দীর্ঘদিন সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।