‘বন্ধুর ছদ্মবেশে পিঠে ছুরি!’ ক্যাপ্টেনসি টাস্কের মাঝেই দলবদলের গোপন খেলা ফাঁস, বিগবসের ঘরে চরম অশান্তি

বিগবসের ঘরের অন্দরে দিন যত এগোচ্ছে, ততই যেন কূটকৌশল, অভিযোগ আর মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের পারদ চড়ছে। ক্যাপ্টেনসি দখলের একটি অত্যন্ত উত্তেজক ও রোমাঞ্চকর টাস্ককে কেন্দ্র করে এবার ঘরে তৈরি হলো চরম অশান্তি ও মনমালিন্যের আবহ। খেলায় দলের সতীর্থদের বিরুদ্ধে সরাসরি ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ তুলে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন প্রতিযোগী মনামী। তাঁর দাবি, সহপ্রতিযোগী রাজবীর ও নন্দিনী তাঁকে বিপক্ষ দলের কাছে একপ্রকার ‘বেচে দিয়েছেন’। পাশাপাশি ভরত কলের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়ে মনামী অভিযোগ করেন যে, ভরত মুখে তাঁকে এগিয়ে দিলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে কখনই তাঁর পাশে দাঁড়াননি।

আলোচিত এই ক্যাপ্টেনসি টাস্কটি পরিচালনা করেছিলেন সঞ্চালক জীতু। বর্তমান ক্যাপ্টেন নিরঞ্জনকে এই খেলায় বাদ রাখা হয়েছিল। প্রতিযোগীদের দুটি পৃথক দলে ভাগ করে বল ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই শুরু হয়। নিয়ম ছিল, জীতুর সাথে নিজেদের বল রক্ষা করতে হবে এবং বিপক্ষ দলের বল ছিনিয়ে এনে নির্দিষ্ট বালতিতে ফেলতে হবে। খেলার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু কড়া শর্তও দেওয়া হয়েছিল— যেমন জামার ভেতরে বল লুকিয়ে রাখা যাবে না, জল ফেলা যাবে না এবং খেলার খাতিরে কোনো পুরুষ প্রতিযোগী মহিলা প্রতিযোগীকে স্পর্শ করলে তা নিয়ে অহেতুক ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলা যাবে না।

কিন্তু খেলা শেষ হতেই পুরো পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। মনামীকে হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখে ভরত কল কারণ জানতে চাইলে মনামী নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, যে দলের হয়ে তিনি লড়ছিলেন, সেই দলের সদস্যরাই তাঁর পিঠে ছুরি মেরেছেন। রাজবীর ও নন্দিনীর বিরুদ্ধে বিপক্ষ দলের সাথে গোপনে হাত মেলানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।

তদন্তে বা পর্দার আড়ালে উঠে এসেছে আরও বড় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, নিরঞ্জন ও নন্দিনীর মধ্যে একটি গোপন চুক্তি হয়েছিল। সেই মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, সৃজলাকে প্রথমে আউট করার পর মনামীকে নিজেদের দল থেকে সুকৌশলে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়। পরবর্তীতে একে একে বাকি প্রতিযোগীদের আউট করে দুর্নিবারকে ক্যাপ্টেন করার পরিকল্পনা ছিল। বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে চলা এই নোংরা রাজনৈতিক অঙ্ক বিগবসের খেলায় কতটা প্রভাব ফেলে এবং আগামী পর্বে কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দর্শকরা।