পদত্যাগ না বরখাস্ত? তৃণমূল ছাড়ার গুঞ্জনের মাঝেই বিরাট পদক্ষেপ সাবিনা ইয়াসমিনের!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণে আবারও বড় রকমেরল ওলটপালট। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মহিলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। শারীরিক ও পারিবারিক কারণের কথা উল্লেখ করে তিনি দলের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্রের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং দলীয় পদ ছাড়লেও একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। আর এই পদত্যাগের পরই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেছে তীব্র জল্পনা।
মূলত, দলবদল এবং আইনি টানাপোড়েনের আবহেই এই পদত্যাগের ঘটনা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার অভিযোগে মোট ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়া, বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছেও লিখিত আবেদন জানান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই বিধানসভার সচিবালয় থেকে যে ১০ জন বিধায়কের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম নাম মোথাবাড়ির বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন।
এই পরিস্থিতির মাঝেই সাবিনা ইয়াসমিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, সময়ের অভাবেই তিনি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মহিলা সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর সঙ্গে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো মতপার্থক্যের কোনো যোগসূত্র নেই বলেই তাঁর দাবি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এবং বিধানসভার নোটিস জারির ঠিক প্রাক্কালে এমন একটি পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে নিছক কাকতালীয় বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগামী দিনে সাবিনা ইয়াসমিনের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঠিক কী হতে চলেছে এবং এই ইস্তফা দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।