ফাইনাল শেষের বাঁশি বাজতেই রণক্ষেত্র! স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে হারের পর উত্তপ্ত মাঠে ঠিক কী ঘটেছিল?

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন স্পেন তাদের ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে, ঠিক তখনই মাঠের এক কোণে তৈরি হয় এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও লজ্জাজনক পরিস্থিতি। অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে রোমাঞ্চকর পরাজয়ের পর আর্জেন্টিনা দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ম্যাচ শেষের সেই রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা, মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের আক্রমণাত্মক ও হিংসাত্মক আচরণ বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার চরম নজর কেড়েছে। এই অনভিপ্রেত এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করার জন্য ফিফা ইতিমধ্যেই একজন স্বাধীন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে, যিনি এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে স্পেনের খেলোয়াড়েরা উল্লাস করতে করতে মাঠের এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছিলেন। সেই সময় রদ্রি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মোলিনার সঙ্গে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছোটখাটো কথা কাটাকাটি ভয়াবহ রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভি এগিয়ে এলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং আলমাদারা তাঁদের ওপর চড়াও হন। সম্প্রচারের সময় ধারাভাষ্যকার অ্যালান শিয়ারার কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, পারেদেস যেভাবে প্রতিপক্ষের মুখের ওপর আঘাত হেনেছেন এবং চড়াও হয়েছেন, তার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। অন্যদিকে, সাবেক তারকা জো হার্ট এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘জঘন্য আচরণ’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই অনভিপ্রেত ঘটনাকে কিছুটা হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, তবুও ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কড়া নজর থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই।

ফিফার শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফেয়ার প্লে এবং শালীনতার নীতিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ফিফার নিযুক্ত প্রসিকিউটর এই মারামারির ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন। যদি তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়, তবে অভিযুক্ত খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের ওপর বিশ্বজুড়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে, যা তাঁদের ফুটবল কেরিয়ারে বড় ধাক্কা দেবে। একই সঙ্গে ঘটনার দায় এড়াতে পারছে না আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), কারণ সংস্থাকেও মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। সেমিফাইনালের পর বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন এবং ফাইনালে হারের ঠিক পরপরই এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও সহিংস আচরণ বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এই হাই-প্রোফাইল অনুশাসনের লংঘন কাণ্ডে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ঘোষণা করে।