চিন-তিব্বত সীমান্তে হড়পা বানে নিখোঁজ ৩২ পর্যটক? নিরাপদে ফেরার আশায় শুভ্রাংশু রায়!

চিন-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও হড়পা বানের জেরে নিখোঁজ পর্যটকদের নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়সহ বাংলার মোট ৩২ জন পর্যটক বর্তমানে চিন-তিব্বতের ভূখণ্ডে কোথাও সুরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জোরালো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে চিন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে জোরদার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর।
অনুমানের নেপথ্যে কী যুক্তি?
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে শুভ্রাংশু রায় জানান, কিছু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছিল যে গত ২৬ আগস্ট চিন-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বিধ্বংসী হড়পা বান আছড়ে পড়ার ঠিক আগেই প্রায় ৫০০ জন পর্যটককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। মুকুল-পুত্রের জোরালো অনুমান, সেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া পর্যটকদের দলেই হয়তো শর্মিষ্ঠা সহ বাংলার ৩২ জন পর্যটকীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এই অনুমানের সপক্ষে সরকারি নথির তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বছর চুয়াল্লিশের শর্মিষ্ঠা ঘটনার দিন সকাল আটটা নাগাদ ইমিগ্রেশন সেন্টার পার হয়ে চিনা ভূখণ্ডের দিকে প্রবেশ করেছিলেন। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল নটা নাগাদ চিন সীমান্ত বরাবর চেকপয়েন্টগুলি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
চিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের আবেদন
এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই শুভ্রাংশুর দাবি, শর্মিষ্ঠা ও অন্যান্য নিখোঁজ পর্যটকেরা বর্তমানে ঠিক কোন অবস্থানে রয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক যেন অবিলম্বে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁর ব্যাখ্যা, তিব্বত সীমান্ত এলাকায় কঠোর যোগাযোগের বিধিনিষেধ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় হয়তো নিরাপদে থাকা সত্ত্বেও পর্যটকেরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উঠতে পারছেন না।
মিডিয়ায় ভুল খবর প্রচারের জেরে বিভ্রান্তি বাড়ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন শুভ্রাংশু। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং ফোনে কথাও বলেছেন। বুধবার আমরা নবান্নে গিয়ে বিশদ বৈঠকে বসব।” সার্বিক এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ পর্যটকদের নিরাপদ ফেরাতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে কি সুরাহা মিলবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবারগুলি।