টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের দোরগোড়ায় আর্জেন্টিনা, সমালোচকদের কড়া জবাব দিলেন মহাতারকা মেসি!

বিশ্ব ফুটবলের মহারণে ফের মুখোমুখি লিওনেল মেসি ও তাঁর আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের হাতছানি বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সামনে। তবে এই স্বপ্নের যাত্রার শেষ বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে স্পেন। আগামী রবিবারের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলা স্প্যানিশ দলকে নিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বেশ সতর্ক। দীর্ঘসময় বার্সেলোনায় খেলার সুবাদে বর্তমান স্পেন দলের ফুটবলারদের খেলার ধরন ও কৌশল তাঁর নখদর্পণে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর মেসি স্পেনকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী ও ‘সম্পূর্ণ দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
মেসি জানান, স্পেনের খেলার শৈলী এবং ফুটবল দর্শন সম্পর্কে তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত। বার্সেলোনার সাথে তাঁর আবেগঘন সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বর্তমান স্পেন দলের অনেক খেলোয়াড়ই বার্সার প্রতিনিধিত্ব করে। তিনি নিয়মিত তাদের পারফরম্যান্স অনুসরণ করেন, তাই প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গা সম্পর্কে তাঁর পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে নাটকীয়তা ছিল তুঙ্গে। ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তের জাদুকরী পারফরম্যান্সে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন মেসি। তাঁর দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বিশ্বমুকুট ধরে রাখার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে টুর্নামেন্ট জুড়ে রেফারিদের সিদ্ধান্তের কারণে আর্জেন্টিনার দিকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের এমন অভিযোগকে পাত্তাই দেননি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।
তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “কারও খারাপ লাগলে লাগুক। গত চার বছর ধরে আমরা বিশ্বসেরা দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছি। টানা দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা কোনো ভাগ্য বা হঠাৎ পাওয়া সাফল্য নয়, এটি আমাদের পরিশ্রমের ফসল।” মেসি আরও যোগ করেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গেলে সমালোচকদের অপপ্রচার করার সুযোগ হতো, তবে ফুটবলীয় নৈপুণ্যে তারা সে সুযোগ কাউকে দেয়নি।
এই ঐতিহাসিক জয়টি মেসি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ঠিক ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক সেই লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে মেসি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “নিশ্চিতভাবে ডিয়েগো ওপর থেকে আজ ভীষণ উপভোগ করছেন। এই আনন্দ তাঁকে দিতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। এই জয়টি আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য উপহার।” এখন সবার নজর রবিবারের ফাইনালের দিকে, যেখানে ম্যারাডোনার আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখতে প্রস্তুত আর্জেন্টিনা।