২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংল্যান্ডের। কিন্তু ব্রিটিশ ব্রিগেডের এই হারের চেয়েও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের মহাতারকা জস বাটলারের (Jos Buttler) জঘন্য ফর্ম। গোটা টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে কার্যত ‘কঙ্কালসার’ দশা ছিল এই বিধ্বংসী ওপেনারের। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই এবার নিজের ভবিষ্যৎ ও অবসর নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন বাটলার।
পরিসংখ্যান যখন ভয়ের কারণ
যে বাটলারের ব্যাট মানেই বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া, সেই বাটলার এই বিশ্বকাপে ৮ ইনিংসে করেছেন মাত্র ৮৭ রান। গড় ১১-র নিচে! নিজের এই পারফরম্যান্সে বাটলার নিজেও চরম হতাশ। আইপিএলে গুজরাত টাইটান্সের হয়ে খেলা এই তারকা ব্যাটার এক পডকাস্টে অকপটে স্বীকার করেছেন:
“এই বিশ্বকাপটা আমার খুব খারাপ কেটেছে। একেবারেই নিজের ছন্দে ছিলাম না, যা আমাকে খুব হতাশ করেছে। তবে গত কয়েক বছরে আমি আমার সেরা ক্রিকেটটাই খেলেছি। আমি বিশ্বাস করি, আবার সেই ছন্দে ফিরতে পারব।”
অবসর না কি লড়াই?
বাটলারের টানা অফফর্ম দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি হয়তো এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন। কিন্তু সেই জল্পনায় জল ঢেলে বাটলার জানিয়েছেন:
খেলার খিদে: তিনি আরও কিছুদিন দেশের হয়ে খেলতে চান। অবসরের কথা এখনই ভাবছেন না।
ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে অনাগ্রহ: ২০২২-এ ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতালেও, বর্তমানে অধিনায়কত্বের ব্যাটন আর হাতে নিতে চান না তিনি। নিজের ব্যাটিংয়েই মনোযোগ দিতে চান।
নির্বাচকদের ওপর ভরসা: তবে দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচক নই, তাই নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারব না।”
স্যাম কারানের আশ্বাসও বিফলে
সেমিফাইনালের আগে সতীর্থ স্যাম কারান দাবি করেছিলেন, ওয়াংখেড়ের পরিচিত পিচে বাটলার জ্বলে উঠবেন। কারান বলেছিলেন, “বৃহস্পতিবার রাতটা বাটলারের হতে পারে।” কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে সেই মহারণেও বাটলারের ব্যাটে রান আসেনি।
এখন প্রশ্ন হলো, ইংল্যান্ড ক্রিকেটের নতুন মডেলে যেখানে তরুণদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ৩৫ ছুঁইছুঁই বাটলারকে নির্বাচকরা আর কতদিন সময় দেবেন? না কি আইপিএলের ফর্মই হবে তাঁর জাতীয় দলে ফেরার মাপকাঠি? নজর থাকবে ক্রিকেট মহলে।