কব্জির যন্ত্রণার মাঝেও ফ্লাশিং মিডোতে ম্যাজিক! ফরাসি ওপেন ও উইম্বলডন মিস করার পর কামব্যাক ম্যাচেই কী বললেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন?

চার মাসের দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে টেনিস কোর্টের গ্র্যান্ড স্ল্যাম মঞ্চে এক দুর্দান্ত ও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটালেন বিশ্ব টেনিসের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা কার্লোস আলকারাজ। ইউএস ওপেনের (US Open) অত্যন্ত রোমাঞ্চকর প্রথম রাউন্ডের লড়াইয়ে রোমান সাফিউলিনকে একেবারে স্ট্রেট সেটে উড়িয়ে দিয়েছেন স্প্যানিশ সেনসেশন। খেলার ফলাফল সম্পূর্ণভাবে তাঁর পক্ষে থেকে ৬-৪, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু এই দাপুটে ও নজরকাড়া জয়ের পরেও মানসিকভাবে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই গতবারের চ্যাম্পিয়ন। দীর্ঘ চোট সারিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যামের আঙিনায় পা রাখার পর নিজের কব্জির স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে এখনও প্রবল সংশয় ও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের গত এপ্রিলে কব্জির মারাত্মক চোটের কারণে টেনিস কোর্ট থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে গিয়েছিলেন এই তরুণ তারকা। যার ফলে ফরাসি ওপেন এবং উইম্বলডনের মতো মর্যাদাপূর্ণ মেগা টুর্নামেন্টেও তাঁর নামা সম্ভব হয়নি। কোর্টের বাইরে কাটানো সেই দীর্ঘ ও কঠিন চার মাসের অপেক্ষার কথা বলতে গিয়ে ফ্লাশিং মিডোতে র‍্যাকেট হাতে নামার পর আলকারাজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “গত চার-পাঁচ মাস আমার কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। তবে ফের কোর্টে নামার জন্য নিউইয়র্কের এই টুর্নামেন্টের চেয়ে ভালো বিকল্প আর কিছু হতেই পারত না। এই জায়গাটা আমার হৃদয়ের খুব কাছের এবং কোর্টের লড়াকু পরিবেশ ও দর্শকদের উপস্থিতি আমি দারুণভাবে মিস করেছি।”

যদিও প্রতিপক্ষকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছেন, তবুও এই লড়াই মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে নিজের ফিটনেস নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় ভুগছেন স্প্যানিশ তারকা। অকপটে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, “সবচেয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন ছিল আমার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে। কব্জি কতটা ধকল সইতে পারবে, তা নিয়ে মনের মধ্যে তীব্র আশঙ্কা কাজ করছিল। মিথ্যে বলব না, ম্যাচ চলাকালীনও বেশ কিছু সংশয় তৈরি হয়েছিল। বারবার মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা যদি চার বা পাঁচ সেটে গড়াত, তবে আমি আদৌ ফিটনেস বজায় রেখে টিকতে পারতাম কি না।” তবে নিজের মানসিক দৃঢ়তার জোরে কোর্টে সেই সংশয়ের বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়তে দেননি তিনি। বিশেষ করে দ্বিতীয় সেটে সাময়িক পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ দক্ষতায় দারুণভাবে কামব্যাক করেন আলকারাজ।

সাফিউলিনের তৈরি করা চাপ অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে সামলে প্রথম ম্যাচের সার্বিক পারফরম্যান্স নিয়ে দারুণ সন্তুষ্ট গতবারের চ্যাম্পিয়ন। তিনি আরও যোগ করেন, “দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম ম্যাচেই এমন খেলা উপহার দিতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। তবে নিজের চেনা ছন্দ সম্পূর্ণভাবে ফিরে পেতে আমার আরও কিছু ম্যাচ খেলা প্রয়োজন।” শারীরিক লড়াইয়ের চেয়েও এই জয়ের নেপথ্যে মানসিক লড়াইকেই বেশি এগিয়ে রাখছেন আলকারাজ। তাঁর মতে, “প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি করাই এখন আমার মূল লক্ষ্য। তবে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় হলো, মনের সব সংশয় ও স্নায়ুর চাপকে জয় করে নিজেকে মানسিকভাবে শক্ত রাখতে পেরেছি।” খেতাব রক্ষার এই কঠিন লড়াইয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে আলকারাজের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হলেন পর্তুগালের জাইম ফারিয়া, যিনি মার্কিন তারকা জেনসন ব্রুকসবিকে হারিয়ে পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নিয়েছেন। কব্জির সমস্ত দুশ্চিন্তা দূরে সরিয়ে ফারিয়ার বিরুদ্ধেও জয়ের এই ধারা অব্যাহত রাখাই এখন স্প্যানিশ তারকার একমাত্র লক্ষ্য।