টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশকে কার্যত ২৪ ঘণ্টার চরম আল্টিমেটাম দিয়েছে। আইসিসি-র সাফ বার্তা— ভারতে খেলতে আসার চূড়ান্ত সম্মতি দিন, নচেৎ বিশ্বকাপ থেকে চিরতরে বাদ পড়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে আইসিসি-র এমন কঠোর এবং নজিরবিহীন অবস্থান আগে কখনও দেখা যায়নি।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশ যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত না জানায়, তবে তাদের জায়গায় অন্য দলকে নেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে আইসিসি। বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই আইসিসি বোর্ডে নীতিগতভাবে ভোট পড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, বিসিবি-র গড়িমসিতে যাতে বিশ্বকাপের সূচি বা ভাবমূর্তি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ‘চেকমেট’ চাল দিয়ে রেখেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা।
এই চরম সংকটের মূলে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এবং সেদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান। অভিযোগ উঠেছে, ক্রিকেটের মতো একটি নিরপেক্ষ বিষয়কে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়াকে রাজনৈতিক ‘চাপ’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে প্রশাসনের একাংশ। অথচ, পর্দার ওপারের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিজেরাই বিশ্বকাপে খেলতে মুখিয়ে আছেন এবং তারা প্রস্তুতির তুঙ্গে ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মাঠে নামার সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় তারা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। বিশ্বকাপ মানে শুধু দেশের প্রতিনিধিত্ব নয়, বরং ক্যারিয়ার গড়া এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চ। এই টুর্নামেন্ট হাতছাড়া হলে তার নেতিবাচক প্রভাব ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বকাপ শুরু। ক্রিকেট কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা সরকারের জন্য অপেক্ষা করে না। সম্প্রচার সত্ত্ব থেকে শুরু করে স্পনসরশিপ— সবকিছুই সময়ের ফ্রেমে বাঁধা। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি এবার পিছু হটে, তবে ভবিষ্যতে আইসিসি-র বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের অধিকার বা গুরুত্ব হারাবে তারা। এখন দেখার, ঢাকা শেষ মুহূর্তে নিজেদের জেদ বজায় রাখে নাকি ক্রিকেটারদের স্বপ্নের কথা ভেবে সুর নরম করে। উত্তরের অপেক্ষায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা।