রবিবার রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে বল হাতে আগুন ঝরালেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)-র অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। আইপিএলের মেগা লড়াইয়ে যখন দুই হেভিওয়েট দল মুখোমুখি, তখন কার্যত একাই মুম্বইয়ের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে তছনছ করে দিলেন ভুবি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত সুইং এবং নিখুঁত লাইন-লেংথের সামনে শুরু থেকেই দিশেহারা দেখিয়েছে মুম্বইয়ের টপ অর্ডারকে। ম্যাচের শুরুতেই ঝটকা দিয়ে রায়ান রিকেলটনকে ফেরান তিনি। তবে আসল ধামাকা তখনও বাকি ছিল।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে ভুবনেশ্বর যা করলেন, তা দেখে গ্যালারিতে তখন উচ্ছ্বাসের সুনামি। ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরে ফেরান প্রাক্তন মুম্বই অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে। ঠিক তার পরের বলেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার সূর্যকুমার যাদবকে শূন্য রানে আউট করে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান তিনি। স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা বিরাট কোহলি সূর্যকুমারের ক্যাচ ধরতেই স্টেডিয়ামে আরসিবি সমর্থকদের গর্জন বুঝিয়ে দিচ্ছিল, ম্যাচের রাশ কার হাতে। সূর্যকুমারের এই ‘গোল্ডেন ডাক’ ছিল ম্যাচের অন্যতম নাটকীয় এবং নির্ণায়ক মুহূর্ত।
এই বিধ্বংসী স্পেলের মাধ্যমেই ২০২৬ আইপিএলে প্রথম বোলার হিসেবে ২০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভুবনেশ্বর কুমার। এই সাফল্য কেবল একটি মরশুমের খতিয়ান নয়, বরং তাঁর অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার প্রমাণ। আইপিএল ইতিহাসে এই নিয়ে মোট চারটি আলাদা মরশুমে ২০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার অনন্য নজির গড়লেন তিনি। এই কীর্তিতে ভুবি এখন লাসিথ মালিঙ্গা ও জসপ্রিত বুমরাহর মতো কিংবদন্তি পেসারদের এক সারিতে। তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন যুজবেন্দ্র চাহাল (৫ বার)।
পরিসংখ্যান বলছে, ভুবনেশ্বর শেষবার ২০১৭ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ২৬ উইকেট নিয়ে ‘পার্পল ক্যাপ’ জিতেছিলেন। দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও সেই পুরনো ছন্দ ফিরে পাওয়া তাঁর কঠোর পরিশ্রমেরই ফল। আইপিএলের ইতিহাসে বর্তমানে ২১৮টি উইকেট নিয়ে তিনি সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। পেসারদের মধ্যে তাঁর উপরে এই লিগে আর কেউ নেই। ২০২২ সালের পর থেকে জাতীয় দলে ব্রাত্য হলেও ভুবি বারবার প্রমাণ করছেন যে তাঁর শিল্পে এখনও মরচে পড়েনি। আরসিবি-র বোলিং আক্রমণের প্রধান সেনাপতি হিসেবে ভুবনেশ্বরের এই ফর্ম আসন্ন প্লে-অফের আগে বিপক্ষ দলগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা।





