বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে নেমে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতির শিকার হতে হলো ইরান ফুটবল দলকে। দীর্ঘ টালবাহানা ও আশঙ্কার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে নামলেও, অভিজ্ঞতার শেষে জুটল চরম তিক্ততা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ ড্র করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও, ম্যাচ শেষের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান দলকে মার্কিন মুলুক ছাড়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস সর্বজনবিদিত। সেই ছায়া যে বিশ্বকাপের গণ্ডিতেও পড়তে পারে, তা আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। ইরানের মূল বেস ক্যাম্প মেক্সিকোতে হলেও, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার পর রিকভারি সেশনের জন্য সোমবার রাতে দলটির মার্কিন মুলুকেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরান কোচ আমির ঘালেনোয়েই সংবাদসংস্থা এপি-কে জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও রিকভারির সুযোগ না দিয়েই তাঁদের তড়িঘড়ি দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান কোচ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা রিকভারির সময়টুকুও পাইনি, যা খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অথচ আমাদের বিমান ধরে দ্রুত তিজুয়ানায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।” দলের অধিনায়ক ও তারকা ফুটবলার মেহদি তারেমি জানিয়েছেন, লস অ্যাঞ্জেলসে আসার সময় থেকেই তাঁদের নানাবিধ দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। কোচের মতে, বিশ্বকাপে সম্ভবত তাঁদের দলই সবচেয়ে বেশি প্রতিকূলতার শিকার হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে আসার আগে থেকেই ইরানের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে। দলের সাপোর্ট স্টাফ, মিডিয়া আধিকারিক, এমনকি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টকেও মার্কিন ভিসা দিতে অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ, যা দলের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যঘাত ঘটিয়েছে। এত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ইরান নিজেদের জাত চিনিয়েছে। কিউইদের বিরুদ্ধে দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ম্যাচ ড্র করে মাঠ ছেড়েছে তারা। নিউজিল্যান্ডের স্ট্রাইকার এলিজা জাস্ট জোড়া গোল করলেও, ইরানের রামিন রেজাইয়ান ও মহম্মদ মোহেবির গোলে সমতা ফেরায় দলটি। মাঠের পারফরম্যান্সে সপ্রতিভ থাকলেও, মাঠের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হতে হচ্ছে এশিয়ার এই শক্তিধর ফুটবল দলকে—এমনটাই মত ক্রীড়া পর্যবেক্ষকদের।





