বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের ঠিক আগের মুহূর্তে স্টেডিয়ামের নিয়মাবলীতে বড়সড় পরিবর্তন আনল ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার থেকে স্টেডিয়ামের ভেতরে দর্শকরা কোনো প্রকার জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। মাঠের ভেতরে জলের বোতল নিয়ে ঢোকার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফিফা।
ফিফার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে ফুটবল বিশ্বে। ফিফার আগেকার ‘স্টেডিয়াম কোড অফ কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা ছিল, ১ লিটারের পুনর্ব্যবহারযোগ্য (Reusable) প্লাস্টিকের বোতল দর্শকরা চাইলে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু ২ জুন এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা জানিয়েছে, আগের সেই নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দর্শকরা কোনো প্রকার বোতলই স্টেডিয়ামে আনতে পারবেন না।
ফিফার দাবি, নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের যুক্তি, মাঠের ভেতরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যদি বোতল ছুঁড়ে মারা হয়, তবে খেলোয়াড় কিংবা দর্শকদের চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই আঘাত এড়াতেই বোতল নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে বিশ্ব ফুটবলের এই সংস্থা।
তবে ফিফার এই কঠোর নিয়ম ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কারণ, বোতল নিষিদ্ধ হওয়ায় স্টেডিয়ামের ভেতরে থাকা ‘ওয়াটার ফাউন্টেন’ থেকে জল ভরে খাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন সমর্থকরা। গত বিশ্বকাপে ফিফার ভেন্যুগুলোতে এক বোতল জলের জন্য দর্শকদের ৪ থেকে ৬ ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছিল। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে জলের দাম কত হবে, তা এখনও ফিফা স্পষ্ট না করলেও, কোকা-কোলার সঙ্গে পার্টনারশিপ থাকার কারণে স্টেডিয়ামে তাদের ব্র্যান্ড ‘দাসানি’ পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, জলের জন্য দর্শকদের পকেটের ওপর চাপ বাড়াটা নিশ্চিত।
একদিকে যেমন এবার বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে, যার ফলে মাঠের লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হবে, তেমনই অন্যদিকে আমেরিকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আবহাওয়া নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের সময় ভেন্যুগুলোতে তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গরমের এই তীব্রতার মাঝে স্টেডিয়ামে বোতল নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে জলের সঙ্কটে পড়ার ভয় পাচ্ছেন সমর্থকরা। তবে ফিফার আশ্বস্তবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতিটি স্টেডিয়ামেই জলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হবে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের এই কঠোর নিয়মের ফলে দর্শক সমাগম কিংবা মাঠের ভেতরের পরিবেশে কী প্রভাব পড়ে।





