ইডেন গার্ডেন্সে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচের প্রথম দু’দিনেই মোট ২৬টি উইকেটের পতন ঘটেছে। দ্বিতীয় দিনে মোট তিনটি সেশনে ভারতীয় দলের ৯টি উইকেট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ৭টি উইকেট পড়েছে। উইকেট পতনের এই ধারাবাহিক প্রদর্শনীতে কাঠগড়ায় ইডেনের বাইশ গজ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ভারতীয় স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা তাঁর ভেলকি দেখিয়েছেন।
দ্বিতীয় দিনের খেলা: পিচটি শুষ্ক এবং ধীরে ধীরে স্পিনারদের সহায়ক হয়ে উঠেছে। প্রথম দিনে জসপ্রীত বুমরাহর বিস্ফোরক বোলিং দক্ষিণ আফ্রিকাকে শেষ করে দিয়েছিল। এরপর ভারতীয় ব্যাটিংকে ভাঙে প্রোটিয়া পেস এবং স্পিনের যৌথ প্রচেষ্টা। প্রথম ইনিংসে ৩০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়।
এর সৌজন্যে ভারতীয় স্পিনাররা, যার নেতৃত্বে ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। প্রথম ইনিংসে ভারতীয় বোলিংয়ের প্রধান আকর্ষণ যদি হন বুমরাহ, তাহলে দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ভূমিকা পালন করেছেন জাদেজা। তিনি ২৯ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন। বাকি ৩টির মধ্যে কুলদীপ যাদব দু’টি এবং অক্ষর প্যাটেল একটি উইকেট পেয়েছেন। দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৩০ রানের লক্ষণরেখা টপকে ৭ উইকেটে ৯৩ রান তুলেছে। অর্থাৎ প্রোটিয়ারা এখন ৬৩ রানে এগিয়ে রয়েছে। অপরাজিত আছেন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা (২৯) এবং কেভিন বশ (১)।
পিচ ও ম্যাচের পরিণতি: ইডেনের পিচে বল ঘুরছে। তৃতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি কিছু রান যোগ করতে পারে, তবে তাদের স্পিনার হারমার এবং কেশব মহারাজকে সামলাতে ভারতীয় ব্যাটারদের সমস্যা হতে পারে। তবে রবিবাসরীয় ইডেনে ভারতীয় বোলাররা প্রোটিয়াদের শেষ তিনটি উইকেট দ্রুত তুলে নিতে পারলে আড়াই দিনেই ম্যাচের ফয়সালা হয়ে যাবে।
৬ বছর আগে পিঙ্ক বল টেস্টের পর ইডেনে আবার পাঁচদিনের ক্রিকেট ফিরেছে। সেবার বাংলাদেশ মাত্র আড়াইদিনের কম সময়ে ম্যাচ হেরেছিল। এবারও এই টেস্টের পরিণতি একইরকম হতে পারে। পিচ নিয়ে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকা শিবির সরব হয়েছে এবং কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তোলা হতে পারে। যদিও এই ঘূর্ণি পিচ ভারতীয় শিবির থেকেই প্রস্তুত করানো হয়েছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই পিচে উইকেট পতনের অন্যতম কারণ কেবল পিচ নয়, ব্যাটারদের দক্ষতার অভাবও বটে।