ভারতীয় ক্রিকেটে বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর গত মাসেই বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এখন তিনি শুধু একদিনের ম্যাচেই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তবে, তার এই অবসরের ধরন যেন মেনে নিতে পারছেন না ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ রবি শাস্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি তার হাতে ক্ষমতা থাকত, তাহলে তিনি কোহলিকে আবারও টেস্ট অধিনায়কত্বের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতেন।
“মন খারাপ করে এখনও”: কোহলির অবসর নিয়ে শাস্ত্রীর হতাশা
সামনেই ভারত-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজ এবং তার আগে চলছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, যেখানে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় রয়েছেন শাস্ত্রী। এক সম্প্রচারকারী চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে কোহলির অবসর নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। শাস্ত্রী বলেন, “কেউ যখন চলে যায় তখন সবাই তার গুরুত্ব বুঝতে পারে। সে কত বড় ক্রিকেটার ছিল তা বুঝতে পারে। কোহলির অবসর আমি মানতে পারছি না। এখনও আমার মন খারাপ করে।”
শাস্ত্রী দৃঢ়ভাবে মনে করেন, ভারতীয় বোর্ড চাইলে কোহলির এই অবসর আটকানো যেত। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, বিষয়টা অন্যভাবে সামলানো যেত। ওর সঙ্গে বোর্ড আরও কথা বলতে পারত। যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত, তাহলে অস্ট্রেলিয়া সফরের পরেই কোহলিকে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক করে দিতাম। তাহলে ও আরও কয়েক বছর খেলত।”
কোহলির অনড় সিদ্ধান্ত: বোর্ডের অনুরোধেও কাজ হয়নি
রোহিত শর্মা টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার কয়েক দিন পরেই কোহলিও নিজের অবসরের ঘোষণা করেন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে। পরে ভারতের নির্বাচক প্রধান অজিত আগারকার জানান, কোহলি বোর্ডকে এপ্রিল মাসেই অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তখন বোর্ড তাকে সিদ্ধান্ত বিবেচনা করার অনুরোধ করেছিল, কিন্তু কোহলি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন।
২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভারতের টেস্ট অধিনায়ক থাকার সময় কোচ হিসাবে শাস্ত্রীকে পেয়েছিলেন কোহলি। এই জুটিকে বেশ সফল বলেই মনে করা হয়। শাস্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, অবসর ঘোষণার আগে কোহলি তাকে সে কথা জানিয়েছিলেন। এমনকি কয়েক দিন আগে আইপিএল জেতার পরেও শাস্ত্রীর সঙ্গে কোহলিকে উদযাপন করতে দেখা গেছে, যা তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
কোহলির এই অপ্রত্যাশিত অবসর এবং শাস্ত্রীর প্রকাশ্য অসন্তোষ, ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কোহলির সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল, নাকি বোর্ড তাকে আরও সময় দিতে পারত? এই প্রশ্নগুলো ভারতীয় ক্রিকেট মহলে আরও কিছুদিন ঘুরপাক খাবে বলেই মনে হচ্ছে।