মালদা জেলার রেশম চাষিদের জীবনে খুশির জোয়ার এনে দিয়েছে রেশমগুটি (কোকুন)-এর সর্বকালীন রেকর্ড দাম। কালিয়াচকের কোকুন মার্কেটে উন্নতমানের নিস্তারি কোকুনের দাম মন (৪০ কেজি) প্রতি ২৬ হাজার টাকা উঠেছে, যা এই জেলায় এর আগে কখনও হয়নি।
রেশম শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের মতে, মালদার রেশম সুতোর জিআই ট্যাগ (GI Tag) পাওয়ার ফলেই এই অভাবনীয় মূল্যবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। জেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবার এই চাষের সঙ্গে যুক্ত।
বাম আমলের পতন ও তৃণমূল সরকারের পুনরুত্থান:
ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, বাম আমলে সরকারি উদাসীনতায় মালদার রেশম শিল্প প্রায় ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছিল। অনেক চাষি পেশা বদলাতে বাধ্য হন।
-
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ: রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই শিল্পে নজর দেন। তিনি রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে এর দায়িত্ব দেন।
-
আধুনিকীকরণ: সাবিনা ইয়াসমিনের উদ্যোগে চাষিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের রেশমের ডিম সরবরাহ এবং পুরোনো ‘ঘাই’ পদ্ধতির বদলে মালটি অ্যান্ড রিলিং মেশিন স্থাপন করা হয়।
-
ফলাফল: সুতোর মান বৃদ্ধি পাওয়ায় শুধু ভারতেই নয়, বিদেশেও রফতানি শুরু হয়। সম্প্রতি নিস্তারি প্রজাতির রেশম সুতোর জিআই ট্যাগ পাওয়ায় শিল্পে নতুন গতি এসেছে।
রেকর্ড লেনদেন:
শুক্রবার বালিয়াডাঙার একমাত্র কোকুন মার্কেটে অঘ্রাণী মরশুমের প্রথম ফসলের দাম ওঠে রেকর্ড উচ্চতায়। চাঁচলের রেশমচাষি জাকির হোসেনের কোকুন মন প্রতি ২৬ হাজার টাকা দরে কেনেন রিলার সাদেক আলি।
সাদেক আলি বলেন, “এই দামে কিনেও আমাদের লাভ হবে, কারণ কোকুনের রং ও মান খুব ভালো।” চাষি নুরুল ইসলাম বলেন, “এতদিন রেশম চাষ করছি, এত ভালো দাম কখনও পাইনি। এবার লাভ খুব ভালো হয়েছে।”
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা:
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা জানান, এই রেকর্ড দামে চাষিরা খুব আনন্দিত। তাঁর মতে, রেশম চাষের শ্রীবৃদ্ধি ঘটলে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার সমাধান হবে, মহিলারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হবেন এবং সব মিলিয়ে জেলার অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।
মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের স্বপ্ন হলো, “জেলার রেশম সুতো দিয়ে জেলাতেই পূর্ণাঙ্গ রেশমি কাপড় তৈরি করা, যা বিশ্ব বাজারে মালদার অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই স্বপ্ন আমি সফল করবই।”