৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বার ওপর নৃশংস অত্যাচার, মৃত নবজাতক! উত্তরকন্যা অভিযানে তুলকালাম

এক আদিবাসী অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর নৃশংস অত্যাচার এবং তাঁর নবজাতক সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গ। সোমবার আদিবাসী জনজাতিদের ‘উত্তরকন্যা অভিযান’ ঘিরে শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি এবং তিনবাত্তি মোড় এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতেই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ, জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: এক মর্মান্তিক লড়াই আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর এক আদিবাসী পরিবারের পৈতৃক জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তি এক ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন চালায়। সেই মারধরের জেরে গত ৮ জানুয়ারি ওই মহিলা অকাল প্রসব করেন এবং জন্মের মাত্র তিন দিন পরেই মারা যায় শিশুটি। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে এদিন পথে নামে ‘জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ’সহ একাধিক আদিবাসী সংগঠন।

পুলিশ বনাম জনতা: ধুন্ধুমার পরিস্থিতি শিলিগুড়ি শহর থেকে মিছিলটি উত্তরকন্যার (রাজ্য সরকারের শাখা সচিবালয়) দিকে এগোতে থাকলে তিনবাত্তি মোড়ের কাছে পুলিশ বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়।

  • ধস্তাধস্তি: উত্তেজিত জনতা পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে দু-পক্ষের মধ্যে প্রবল ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

  • পুলিশি অ্যাকশন: ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ প্রথমে জলকামান এবং পরে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু করে।

  • আহত: পুলিশের এই পদক্ষেপে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন বলে খবর। ঘটনার জেরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়।

রাজনৈতিক তরজা ঘটনার খবর পেয়েই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে জবরদস্তি বাধা দিয়েছে পুলিশ। একজন আদিবাসী মহিলার ওপর হওয়া অত্যাচারের বিচার চাওয়ার অধিকার কি সাধারণ মানুষের নেই?”

অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি— আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত এলাকা থমথমে থাকলেও মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy