“৬৪ বছরেও টেক্কা দেবেন তরুণদের!”-প্রোটিন বা সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই কীভাবে ফিট সুনীল শেঠি?

আজকের দৌড়ঝাঁপের জীবনে অকাল বার্ধক্য আর ক্লান্তি যখন নিত্যসঙ্গী, তখন শরীরকে রিভার্স গিয়ারে চালনা করার উপায় কী? দিল্লির ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ২০২৬-এ ‘ওয়েলনেস সার্জ’ সেশনে এই কঠিন প্রশ্নেরই সহজ সমাধান দিলেন বলিউডের চিরতরুণ অভিনেতা ও বিনিয়োগকারী সুনীল শেঠি। সঙ্গে ছিলেন মীরা কাপুর ও ডাঃ নবীন ড্যাং।

সাপ্লিমেন্ট নয়, ভরসা ঘরের খাবারে

আধুনিক বিশ্বে যখন বায়োহ্যাকিং, কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট আর ক্রায়োথেরাপির রমরমা, তখন স্রোতের বিপরীতে হাঁটলেন সুনীল শেঠি। ৬৪ বছর বয়সেও অবিশ্বাস্য ফিটনেস ধরে রাখা এই অভিনেতা স্পষ্ট জানালেন:

“আমি কোনও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করি না। এমনকি আলাদা করে প্রোটিন পাউডারও খাই না। আমার শরীরের জন্য স্টু (Stew) আর দক্ষিণ ভারতীয় ভাতের মতো সাধারণ খাবারই সেরা।”

সুস্থ থাকার ৩টি গোল্ডেন রুল

সঞ্চালক সোনাল মেহরোত্রা কাপুরের প্রশ্নের উত্তরে ‘আন্না’ জানান, মানুষ এখন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ভয় পায়, অথচ দামী সাপ্লিমেন্টের পেছনে ছুটছে। সুস্থ থাকার জন্য দামি প্রযুক্তির চেয়েও তিনটি জিনিসের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি:

১. সঠিক ব্যায়াম: জিম না থাকলেও বাগানে কাজ করা বা ঘাম ঝরানো জরুরি।

২. পরিমিত খাবার: খাবারে তেল, লবণ এবং চিনির পরিমাণের ওপর কড়া নজর রাখা।

৩. গভীর ঘুম: শরীরকে পুনরায় চাঙ্গা করতে পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিকল্প নেই।

বায়োহ্যাকিং বনাম বাস্তবতা

বায়োহ্যাকিং (Biohacking) নিয়ে মাতামাতি হলেও সুনীল শেঠি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, শরীরের জন্য ঠিক কী প্রয়োজন তা না জেনে অন্ধভাবে কোনও ট্রেন্ড অনুসরণ করা উচিত নয়। অভিনেতা বলেন, “অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা করানোর চেয়ে সুস্থ থাকাই অনেক বেশি সাশ্রয়ী। আমি সবসময় খেয়াল রাখি আমার কতটুকু কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিন প্রয়োজন।”

ভারতের স্বাস্থ্য সংকট

সেশনে উঠে আসে ভারতের ডায়াবেটিস রাজধানী হয়ে ওঠার আশঙ্কার কথা। বিশেষজ্ঞরা জানান, মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সঠিক পদ্ধতির অভাব রয়েছে। মীরা কাপুর ও ডাঃ নবীন ড্যাং-ও আধুনিক জীবনযাত্রায় শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy