বেলঘরিয়া রেলওয়ে উড়ালপুলের সংস্কারকাজ ঘিরে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক জটিলতায় চরম দুর্ভোগের শিকার উত্তর শহরতলির কয়েক লক্ষ মানুষ। প্রায় ছয় মাস ধরে সেতুটি বন্ধ থাকায় নিত্যদিন যানজটের নরকযন্ত্রণায় পিষ্ট হচ্ছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রেলের অংশের কাজ প্রায় শেষের পথে হলেও, উড়ালপুলের দুই প্রান্তের বাকি কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
সংস্কার কেন থমকে? পূর্তদফতর সূত্রে খবর, উড়ালপুলের নিচের অংশে ৪৮টি দোকান রয়েছে। এই দোকানগুলি না সরালে বাকি গার্ডার পরিবর্তনের কাজ করা সম্ভব নয়। নিয়ম অনুযায়ী, কাজ শুরুর জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসেই কামারহাটি পুরসভাকে চিঠি দেয় পূর্তদফতর। তালিকাও জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক গড়িমসির জেরে এখনও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি।
প্রশাসনের দায়সারা ভূমিকা শনিবার পূর্তদফতর, পুলিশ, পুরসভা ও মহকুমা প্রশাসনের যৌথ পরিদর্শনেও মেলেনি কোনো সুরাহা। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহার দাবি, যেহেতু দোকানগুলি পূর্তদপ্তরের জমিতে, তাই উচ্ছেদের নোটিস দেওয়ার দায়িত্ব তাদেরই। তবে ব্যবসায়ীদের বিকল্প জীবিকার প্রশ্নটিও এখানে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রশাসনিক টানাপোড়েনের মাঝেই পিসছে সাধারণ মানুষ।
দুর্গাপূজোর আগে কী হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে উড়ালপুলটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর ১৪টি গার্ডার বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আপাতত রেলের উপরের কাজ শেষ হলেও, বাকি কাজের জন্য আরও অন্তত দুই মাসের প্রয়োজন। ফলে দুর্গাপূজোর আগে উড়ালপুলটি আদৌ চালু করা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।
যানজটে নাভিশ্বাস সাধারণের উড়ালপুল বন্ধ থাকায় বিরাটি, বেলঘরিয়া ও সংলগ্ন এলাকার বিকল্প রাস্তাগুলিতে গাড়ির চাপ আকাশছোঁয়া। ২ নম্বর ও ৮ নম্বর রেলগেট এলাকায় নিয়মিত যানজটে আটকে থাকছে অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে স্কুলবাস। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, রাস্তার জট সামলাতে গিয়ে মাঝে মাঝেই ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়ছে।
জনমত উত্তর শহরতলির বাসিন্দাদের এখন একটাই প্রশ্ন—প্রশাসনের এই জটিলতা আর কতদিন সাধারণের জীবনকে দুর্বিষহ করে রাখবে? কবে উঠবে দোকানের জট? উড়ালপুল চালু না হলে পুজোর মরসুমে বেলঘরিয়ার যান চলাচল যে পুরোপুরি ভেঙে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। এখন সবার নজর, প্রশাসন কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে সংস্কারের কাজ পূর্ণ গতিতে শুরু করে।





