ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার মাঝেই দোরগোড়ায় রাম নবমী। আর এই ধর্মীয় উৎসবকেই এবার নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, হিন্দু ভোট এককাট্টা করতে আরএসএস (RSS) ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ একযোগে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। রাজ্যজুড়ে এবার রাম নবমীর প্রস্তুতিতে যে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে, তা বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
৪ হাজার শোভাযাত্রা, লক্ষ্য ২ কোটি মানুষ
গত বছর রাজ্যে প্রায় ৩,২০০টি শোভাযাত্রা হয়েছিল। তবে এবার সেই সংখ্যা একলাফে বাড়িয়ে ৪,০০০ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এবার রাজ্যজুড়ে প্রায় ২ কোটি মানুষ রাম নবমীর মিছিলে শামিল হবেন। ২৬ ও ২৭ মার্চ—টানা দু’দিন ধরে চলবে এই উৎসবের মেগা শো।
তিন ভাগে ভাগ করে অপারেশন ‘রাম নবমী’
গেরুয়া শিবির পরিকল্পনামাফিক গোটা রাজ্যকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে:
-
উত্তরবঙ্গ: গত বছর এখানে ২৩ লক্ষ মানুষ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন, এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্য।
-
মধ্যবঙ্গ: এই অঞ্চলে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত করার পরিকল্পনা।
-
দক্ষিণবঙ্গ: কলকাতার আশপাশসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ১৪ লক্ষেরও বেশি মানুষকে রাস্তায় নামানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে।
বিজেপির প্রার্থীরাও যার যার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন। যদিও আরএসএসের দাবি, এটি একটি সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব, এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উৎসবের আবহে ‘হিন্দুত্বের কার্ড’ খেলে জনমত নিজেদের দিকে টানাই বিজেপির আসল উদ্দেশ্য।
এক নজরে রাম নবমীর প্রস্তুতির পরিসংখ্যান
| বিষয় | ২০২৩ সালের তথ্য | ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা |
| মোট শোভাযাত্রা | ৩,২০০টি | ৪,০০০+ |
| অংশগ্রহণকারী | প্রায় ৪৬.৫ লক্ষ | ২ কোটি (দাবি অনুযায়ী) |
| মূল আকর্ষণ | জেলাভিত্তিক পদযাত্রা | বিজেপি প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ |