“৪ দশকের আনুগত্যের এই পুরস্কার?” মমতার সিদ্ধান্তে পদ হারিয়ে বিস্ফোরক কাকলি, তোলপাড় তৃণমূল!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় রদবদলের হাওয়া জোরালো হচ্ছে। এবার লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের সাংগঠনিক স্তরে বড় চমক দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে লোকসভার মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) পদে ফিরিয়ে আনা হলো শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এই সিদ্ধান্তের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকলি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। বিশেষ করে বারাসত ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিজেপির উত্থান এবং ঘাসফুল শিবিরের ৩৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র ৯টিতে জয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বারাসতের খারাপ ফলের জেরেই কার্যত ‘শাস্তি’ হিসেবে কাকলির ডানা ছাঁটা হলো। পদ হারানোর পর এক আবেগঘন অথচ ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে কাকলি লেখেন, “৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।” তাঁর এই ‘পুরস্কার’ শব্দটি যে নেহাতই কটাক্ষ, তা বুঝতে বাকি নেই কারোর।

অন্যদিকে, পুরনো চাল ভাতে বাড়ে—এই নীতিতেই ফের আস্থা রাখা হয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। ২০২৫ সালের অগাস্টে মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রকাশ্য বিবাদের জেরে পদত্যাগ করেছিলেন কল্যাণ। দীর্ঘ ৯ মাস পর কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের কল্যাণের লড়াকু মেজাজ এবং আইনি দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁকে পুরনো পদে আসীন করলেন। লোকসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেতার দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি এখন থেকে কল্যাণের রণকৌশলই তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy