১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ছাত্র পার্থ সিংহের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। সেই সময় বিনা কারণে গ্রেফতার হওয়া ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জামিনের সওয়াল করতে প্রথমবার গায়ে কালো গাউন চাপিয়ে বালুরঘাট জেলা আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বালুরঘাটের বর্ষীয়ান আইনজীবী সুভাষ চাকী বা মন্মথ ঘোষরা আজও ভোলেননি ১০ ফেব্রুয়ারির সেই দিনটি।
ঠিক ৩২ বছর পর, ২০২৬-এর ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে যখন আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করছেন, তখন সেই স্মৃতিই ফিরে আসছে জনমানসে। কুমারগঞ্জের সেই ঘটনার পর তিনি প্রথমে মৃত ছাত্রের বাড়ি যান এবং ৯ ফেব্রুয়ারি হিলিতে থাকাকালীন জানতে পারেন বন্দিরা এখনও জামিন পাননি। এরপরই শঙ্কর চক্রবর্তী বা সুভাষ চাকীদের মতো আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে নিজে সওয়াল করতে আদালতে নামেন তিনি। বালুরঘাট ছাড়াও হুগলির চুঁচুড়া আদালতেও এক সময় সওয়াল করেছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্টে আজকের এই সওয়াল কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের এক বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার গল্প।