রাজ্যের মহিলাদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ। মঙ্গলবার রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকের পরই এই বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ বিকেলে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও অগ্নিমিত্রা পল যৌথভাবে এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ করবেন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়ার প্রথম ধাপই হলো এই ফর্ম নির্ভুলভাবে পূরণ করা।
কীভাবে পাবেন ৩ হাজার টাকা?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—ফর্ম জমা দিলেই কি ৩ হাজার টাকা পাওয়া যাবে? এই বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে সরকারের তরফে। প্রকল্পটির আবেদন প্রক্রিয়া আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, এনরোলমেন্ট বা নাম নথিভুক্তকরণের কাজ যত দ্রুত সম্পন্ন হবে, তত দ্রুত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। ফর্ম ফিলআপ সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি ট্রান্সফার (DBT) করা হবে। আগামী ১ জুন থেকে এই টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কী হবে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু হলে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে? মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে সরাসরি আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে না ঢুকছে, ততদিন আগের মতোই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা চালু থাকবে। অর্থাৎ, সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পেতে থাকবেন। অর্থাৎ, যতক্ষণ না নতুন প্রকল্পের টাকা পাওয়া শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ বর্তমানের ভাতা কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নেপথ্যে:
ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় জুন মাস থেকেই টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে সরকার। এটি একটি সুপরিকল্পিত রূপান্তর প্রক্রিয়া, যেখানে একটি প্রকল্পের সুবিধা থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরিত হওয়ার সময়কালীন ব্যবধানে মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরনো প্রকল্পের ভাতা বহাল রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের মহিলারা একই সঙ্গে আর্থিক সুরক্ষা ও বর্ধিত ভাতার সুবিধা পাবেন। আবেদনকারীদের দ্রুত ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ভাতার সুবিধা পাওয়া নিশ্চিত হয়। স্থানীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র কিংবা নির্দিষ্ট ক্যাম্প থেকে এই ফর্ম সংগ্রহ ও জমা করার প্রক্রিয়া আজ থেকেই গতি পাবে। প্রকল্পের যাবতীয় আপডেট এবং পরবর্তী নির্দেশাবলীর জন্য রাজ্য সরকারের সরকারি পোর্টালের ওপর নজর রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।





