চরম আর্থিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল পরম মিত্র সৌদি আরব। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির থেকে নেওয়া মোটা অঙ্কের ঋণ শোধ করার চিন্তায় যখন ঘুম উড়েছিল শাহবাজ শরিফ সরকারের, ঠিক তখনই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল রিয়াদ। পাকিস্তানের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার যাতে নিঃশেষ না হয়ে যায়, তার জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা) অর্থসাহায্য পাঠাচ্ছে সৌদি আরব।
সংকটে পাশে সৌদি: পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই অর্থ ইসলামাবাদে পৌঁছে যাবে। শুধু তাই নয়, এর আগে গচ্ছিত থাকা ৫ বিলিয়ন ডলার আমানতের মেয়াদও বাড়িয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার। এই সাহায্য এমন এক সময়ে আসছে যখন পাকিস্তানকে এই মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ শোধ করতে হবে। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের ভাঁড়ারে মাত্র ১৬ বিলিয়ন ডলার সঞ্চিত রয়েছে, যা দিয়ে বড়জোর তিন মাস আমদানি চালানো সম্ভব।
সামরিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন উচ্চতা: কেবল টাকাপয়সা নয়, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও সৌদি-পাক সম্পর্ক এখন নতুন চূড়ায়। গত বছর দুই দেশের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যেখানে বলা হয়েছে:
এক দেশের ওপর হামলা হলে তা অন্য দেশের ওপর হামলা বলে গণ্য করা হবে।
যে কোনো আগ্রাসন রুখতে দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে।
সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার আবহেও দুই দেশের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা: গত শুক্রবার সৌদির অর্থমন্ত্রী মহম্মদ আল-জাদান স্বয়ং ইসলামাবাদে ছিলেন। ঠিক তার আগের দিনই সেখানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি ‘শান্তি বৈঠক’ সম্পন্ন হয়। এমনকি সৌদি আরবের কিং আব্দুলাজিজ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের আনাগোনা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কূটনীতিকদের মতে, সৌদি আরবের এই ২৮ হাজার কোটি টাকার ‘বুস্টার ডোজ’ পাকিস্তানকে সাময়িকভাবে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচালেও, দীর্ঘমেয়াদী ঋণের বোঝা কীভাবে ইসলামাবাদ সামলায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





