রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন যে কোনও দিন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে। তবে দিল্লির ঘোষণার আগেই ময়দানে এক গোল দিয়ে বসে আছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ২৯৪টি আসনের খসড়া তালিকা একপ্রকার তৈরি। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের এক অভূতপূর্ব মিশেল দেখা যেতে পারে জোড়াফুলের এই মেগা তালিকায়।
কলকাতায় বড় রদবদল? কলকাতার অন্দরে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম থাকলেও, বালিগঞ্জ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, বাবুল সুপ্রিয়ের বদলে এবার বালিগঞ্জে দেখা যেতে পারে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। বেহালা পশ্চিমেও প্রার্থী বদলের জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমার এবং কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিমের লড়াই প্রায় নিশ্চিত।
নন্দীগ্রামে তৃণমূলের ‘লোকাল’ কার্ড সবার নজর যেখানে সেই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে এবার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এক অভিনব কৌশল নিতে চলেছে কালীঘাট। সেখানে কোনও বহিরাগত বা হেভিওয়েট নেতার বদলে একজন শক্তিশালী স্থানীয় মুখকে প্রাধান্য দেওয়ার ভাবনা রয়েছে দলনেত্রীর। এছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক আসনে নতুন মুখ দেখার সম্ভাবনা প্রবল।
উত্তরবঙ্গ ও চা-বলয়ের সমীকরণ কোচবিহার থেকে পাহাড়—উত্তরবঙ্গে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল। রাজবংশী ভোট এবং চা-শ্রমিকদের মন জিততে প্রার্থী তালিকায় বিশেষ চমক থাকতে পারে। কোচবিহারে গত লোকসভার ফলের ওপর ভিত্তি করে আত্মবিশ্বাসী শাসক শিবির সেখানে নতুন ও পুরনো নেতার ভারসাম্য রাখতে চাইছে।
কোথায় দাঁড়িয়ে বিরোধীরা? তৃণমূল যখন রণকৌশল সাজিয়ে চূড়ান্ত আক্রমণের অপেক্ষায়, তখন বিরোধীরা অনেকটাই দিশেহারা। বিজেপি এখনও তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের জট কাটেনি আসন বণ্টন নিয়ে। কংগ্রেসের একক লড়াইয়ের ইচ্ছা জোটের ভবিষ্যৎকে আরও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।