২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বঙ্গে এক নয়া রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। বুধবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানিয়েছেন, আগামী ২৫শে বৈশাখ অর্থাৎ ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে চলেছে।
বাংলার ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাজভবন বা নবান্নের চত্বর ছেড়ে সরাসরি ব্রিগেডের উন্মুক্ত ময়দানে হতে চলেছে। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে রবীন্দ্রজয়ন্তীর মতো এক আবেগময় দিনকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে বাঙালির সাংস্কৃতিক সত্তার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার কৌশল রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উপস্থিত থাকছেন হেভিওয়েটরা: শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। এছাড়াও বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একাধিক হেভিওয়েট সদস্যের ব্রিগেডে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শমীকের কথায়, “বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। সেই জনাদেশকে সম্মান জানাতেই এই মেগা আয়োজন।”
কড়া বার্তার সুর: শুধুমাত্র সরকার গঠন নয়, ভোট পরবর্তী অশান্তি নিয়েও এদিন সুর চড়িয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শপথ নেওয়ার পরেই নতুন সরকার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর দেবে। গত কয়েকদিনের বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যাঁরা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
কেন ব্রিগেড? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজেপি নিজেদের জনসমর্থনের ব্যাপ্তি প্রমাণ করতে চাইছে। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে মোদি-শাহের সামনে এই রাজ্যাভিষেক বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করতে চলেছে। এখন কেবল অপেক্ষা ২৫-এ বৈশাখের সকালের, যখন রবীন্দ্রস্মরণ আর নতুন মন্ত্রিসভার শপথ— এই দুইয়ে মিলেমিশে এক নতুন ভোরের সাক্ষী থাকবে কলকাতা।





