কেউ বলছিলেন ‘ব্যাড প্যাচ’, কেউ আবার দাবি তুলেছিলেন দল থেকে ছেঁটে ফেলার। কিন্তু জহুরি জহরত চিনতে ভুল করেন না। ম্যানেজমেন্টের সেই আস্থার মর্যাদা দিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে জ্বলে উঠলেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ২১ বলে ৫২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে প্রমাণ করে দিলেন, কেন তাকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা টি-২০ ব্যাটার বলা হয়।
খাদের কিনারা থেকে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
চলতি বিশ্বকাপের শুরুটা অভিষেকের জন্য ছিল কোনো দুঃস্বপ্নের মতো। ব্যাটে রান নেই, আত্মবিশ্বাস তলানিতে—এমন অবস্থায় প্রাক্তনীদের একাংশ যখন তাঁকে বসিয়ে দেওয়ার জন্য সরব হয়েছিলেন, ঠিক তখনই কিউয়ি বোলারদের ওপর সংহারমূর্তি ধারণ করলেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার। এদিনের হাফ সেঞ্চুরি শুধু ভারতের ইনিংসকে অক্সিজেন দেয়নি, বরং নির্বাচকদের দুশ্চিন্তা ঘুচিয়ে তাঁর দলে থাকা নিয়ে ওঠা সমস্ত প্রশ্নের যবনিকাপাত ঘটিয়েছে।
পাওয়ার প্লে-তে বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্য
অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের যোগ্য সঙ্গত দিলেন ওপেনিং পার্টনার সঞ্জু স্যামসন। দুই তারকার ব্যাটে চড়ে প্রথম ৬ ওভারেই ভারত বোর্ডে তুলে ফেলে অবিশ্বাস্য ৯২ রান। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই পাওয়ার প্লে-ই ভারতকে ট্রফি জয়ের পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেয়। অভিজ্ঞ ব্যাটাররা যখন দ্রুত সাজঘরে ফিরছিলেন, তখন ক্রিজে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে পালটা আক্রমণ চালিয়ে গেছেন অভিষেক।
ম্যানেজমেন্টের বাজি এবং জয়ের রসদ
উইনিং কম্বিনেশন না ভেঙে অভিষেককে আরও একটি সুযোগ দেওয়ার যে ঝুঁকি টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়েছিল, তা এদিন সুদে-আসলে উশুল হলো। সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বড় মঞ্চে বড় প্লেয়াররাই পার্থক্য গড়ে দেন। তাঁর এই ইনিংস শুধু ভারতের স্কোরবোর্ডকে মজবুত করেনি, বরং বিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের মনোবলকে শুরুতেই চুরমার করে দিয়েছে।