বিশ্ব রাজনীতির রণক্ষেত্রে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের কালো মেঘ এবার আছড়ে পড়ল দালান স্ট্রিটে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা রবিবার ছুটির মেজাজ ফিকে করে দিয়ে ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নামাল। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের দিকপাল এইচডিএফসি (HDFC Bank)— ক্ষতির তালিকা থেকে বাদ গেল না কেউই। ২০২৬-এর এই তপ্ত মার্চে লগ্নিকারীদের কপালে এখন চিন্তার গভীর ভাঁজ।
কেন এই ঐতিহাসিক পতন?
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের নেপথ্যে রয়েছে প্রধানত তিনটি কারণ:
-
তেলের বাজারে আগুন: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়ায় রিলায়েন্সের মতো পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্টরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের মতো আমদানিকারক দেশের মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
-
এইচডিএফসি-র সংকট: একদিকে যুদ্ধের আবহ, অন্যদিকে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ ডামাডোল— এই জোড়া ফলায় ব্যাঙ্কিং সূচকে বড় পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে।
-
বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার: যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় বিদেশি লগ্নিকারীরা (FII) ভারতীয় বাজার থেকে দ্রুত পুঁজি সরিয়ে নিচ্ছেন, যার ফলে সেনসেক্স ও নিফটি খাদের কিনারে গিয়ে ঠেকেছে।
আমজনতার ওপর প্রভাব
চৈত্র শেষের এই রাজনৈতিক হুল্লোড়ের মাঝেই অর্থনীতির এই ‘ব্ল্যাক সানডে’ বা কালো রবিবার শিল্প মহলে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। একদিনেই বাজার থেকে লগ্নিকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকা সাফ হয়ে গিয়েছে। পরিবহণ ও উৎপাদন ক্ষেত্রে খরচ বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দামও রেকর্ড পতন ছুঁয়েছে।
শিলিগুড়ি থেকে মুম্বই— ছোট-বড় সব লগ্নিকারীই এখন ল্যাপটপ বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে পলকহীন ভাবে চেয়ে আছেন। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও, বিশ্ব বাজারের এই অস্থিরতাকে ভারত কতক্ষণ সামলাতে পারবে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।