বাংলায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR)। সাধারণত, শেষবার ২০০২ সালে হওয়া SIR-এর ভোটার তালিকাকেই প্রমাণ্য ধরে কমিশন এগোতে চাইছে। তবে SIR শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে বড় বিতর্ক সামনে এল। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, কুলপিতে ২০০২ সালের পরিবর্তে ত্রুটিপূর্ণ ২০০৩ সালের ভোটার তালিকাকে প্রামাণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।
❓ তৃণমূলের প্রশ্ন: কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তাদের ‘এক্স’ (সাবেক ট্যুইটার)-এ পোস্ট করে এই অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্টতা দাবি করেছে। পোস্টে লেখা হয়:
“আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা সে সম্পর্কে স্পষ্টতার দাবি জানিয়েছি যে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার অধীনে কুলপিতে কেন পুরানো এবং ত্রুটিপূর্ণ ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হচ্ছে। যখন ভোটার তালিকার সততাই প্রশ্নের মুখে, তখন নাগরিকরা কীভাবে এই প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখবে?”
তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই স্বচ্ছতার অভাব নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থাকে ক্ষুন্ন করছে এবং “গণতন্ত্রের উপর আঘাত করা হলে বাংলা চুপ করে থাকবে না।”
👨👩👧👦 আজ থেকে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন BLO-রা: নথিপত্র লাগবে কি?
এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার থেকে রাজ্যের সব বুথ লেভেল অফিসার (BLO) -রা এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন।
- কাদের নথি লাগবে না: যাঁদের নিজের বা মা-বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে রয়েছে, তাঁদের আলাদা করে কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে হবে না।
- কাদের নথি লাগবে: যাঁর নিজের বা পরিবারের কারও নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের আবার কমিশনের বলে দেওয়া ১২টি নথির মধ্যে কয়েকটি দেখাতে হবে। তাহলেই খসড়া ভোটার লিস্টে নাম থাকবে।
- আপত্তি জানানোর সুযোগ: খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও ভোটাররা নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের হিয়ারিং-এ ডাকা হবে।
তবে কুলপি নিয়ে তৃণমূলের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।