২০০ কোটির ব্যবসা করেও পকেটে টান! ‘ভূত বাংলা’র প্রযোজকের বিরুদ্ধে উঠল পারিশ্রমিক চুরির অভিযোগ!

বক্স অফিসে লক্ষ্মীলাভ হলেও মন জিততে পারল না অক্ষয় কুমারের কামব্যাক ফিল্ম ‘ভূত বাংলা’। প্রিয়দর্শনের পরিচালনায় এই হরর-কমেডি ছবিটি বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির মাইলফলক পেরিয়ে গেলেও, এর পর্দার নেপথ্যের কারিগররা এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন। অভিযোগ উঠেছে, ছবি সফল হওয়া সত্ত্বেও বহু টেকনিশিয়ান এবং নিচু তলার কর্মীদের বকেয়া পারিশ্রমিক মেটায়নি প্রযোজনা সংস্থা।

সাফল্যের আড়ালে বঞ্চনা: ১৪ বছর পর অক্ষয়-প্রিয়দর্শন জুটির প্রত্যাবর্তন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা ছিল। সেই জোয়ারে ভর করে ছবি বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়। কিন্তু সম্প্রতি সিনেশ্রমিকদের একটি বড় অংশ অভিযোগ তুলেছেন যে, শুটিং শেষ হওয়ার মাসখানেক পেরিয়ে গেলেও তাঁদের প্রাপ্য টাকা এখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। বারবার প্রযোজনা সংস্থার দরজায় কড়া নেড়েও মিলছে না সদুত্তর।

বিতর্কে প্রযোজনা সংস্থা: শোনা যাচ্ছে, ইউনিটের প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মীর বেতন এখনও বাকি রয়েছে। লাইট ম্যান থেকে শুরু করে স্পট বয়— যাঁরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ছবিটিকে সফল করেছেন, তাঁদের পকেটে এখন টান পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন অনেক কর্মী। তাঁদের দাবি, “যখন ছবি ২০০ কোটি কামাচ্ছে, তখন আমাদের ঘাম ঝরানো পয়সা আটকে রাখা হচ্ছে কেন?”

কী বলছে কর্তৃপক্ষ? প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সূত্রের খবর, হিসাব নিকাশের কিছু যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই এই দেরি হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ কর্মীদের প্রশ্ন, যদি ছবি ফ্লপ হতো তবে কি এই অজুহাত দিয়েই পার পাওয়া যেত?

অক্ষয় কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: এই বিতর্ক সামনে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ বলিউড খিলাড়ি অক্ষয় কুমারের দিকে আঙুল তুলেছেন। ছবির প্রধান অভিনেতা হিসেবে তাঁর এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকে। এর আগে বহুবার জনসেবামূলক কাজে এগিয়ে এলেও, নিজের ছবির ইউনিটের এই দশা নিয়ে অক্ষয় এখনও পর্যন্ত নীরব।

এখন দেখার বিষয়, বক্স অফিসের এই বিপুল লভ্যাংশ কি শেষ পর্যন্ত সেই মেহনতি মানুষগুলোর হাতে পৌঁছাবে, নাকি ‘ভূত বাংলা’র সাফল্য বিতর্কিত কায়দাতেই ধামাচাপা পড়ে যাবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy