আইপিএল মানেই টাকার ঝনঝনানি। প্রতি বছর নিলামে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারদের দলে টানে। কিন্তু রেকর্ড বুক বলছে, আকাশচুম্বী দাম পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে সাফল্যের হার অত্যন্ত নগণ্য। বিগত ১৮ বছরে অধিকাংশ ‘দামী’ প্লেয়ারই পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যার ফলে ডুবতে হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে।
কেন ফ্লপ হন দামী ক্রিকেটাররা?
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল পরিমাণ অর্থের চাপ অনেক সময় ক্রিকেটারদের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। নিলামে রেকর্ড দামে বিক্রি হওয়া প্লেয়ারদের ওপর প্রতি ম্যাচে পারফর্ম করার বাড়তি মানসিক চাপ থাকে। যার ফলে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন না তারা।
সফল মাত্র ৪: অর্থের মর্যাদা রেখেছেন যারা
১৮ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় মাত্র ৪ জন এমন দামী ক্রিকেটার পাওয়া গিয়েছে যারা তাদের মূল্যের পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন। তারা হলেন:
বিরাট কোহলি: বছরের পর বছর ধরে আরসিবির ভরসা হয়ে থাকা বিরাট কোহলি দামী ক্রিকেটার হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন বারবার।
রোহিত শর্মা: কোটি টাকার রিটেনশন হোক বা নিলাম, অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি এবং ব্যাটার হিসেবে রান— দুই বিভাগেই সফল ‘হিটম্যান’।
মহেন্দ্র সিং ধোনি: আইপিএলের প্রথম সিজন থেকেই ধোনি ছিলেন দামী ক্রিকেটার। অধিনায়ক হিসেবে ৫টি ট্রফি দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তিনি অমূল্য।
বেন স্টোকস (বা সমসাময়িক কোনো অলরাউন্ডার): আইপিএল ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে চড়া দাম পাওয়া বেন স্টোকস বা হার্দিক পান্ডিয়ার মতো অলরাউন্ডাররা মাঝে মাঝে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে উদ্ধার করেছেন।
ব্যর্থতার তালিকায় দীর্ঘ লাইন
অন্যদিকে, আইপিএলের নিলামে আকাশছোঁয়া দাম পাওয়া ক্রিস মরিস, যুবরাজ সিং বা হালের মিচেল স্টার্কের মতো ক্রিকেটাররা অনেক সময়ই সেই অনুপাতে পারফর্ম করতে পারেননি। প্রায়শই দেখা গিয়েছে, কোনো ক্রিকেটার ১৬-২০ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার পর সেই মরসুমে তিনি ১০টি ম্যাচও ভালো খেলতে পারেননি।
উপসংহার
আইপিএলের ১৮ বছরে এটা স্পষ্ট যে, টাকার অঙ্ক দিয়ে ক্রিকেট মাঠে রান বা উইকেট কেনা যায় না। চড়া দাম অনেক সময় আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হয়েই বেশি দেখা দিয়েছে। বর্তমান সিজনেও এই ধারা অব্যাহত থাকে নাকি নতুন কেউ এই তালিকায় নাম লেখান, সেটাই এখন দেখার।





