১,৫০০ না কি ৩,০০০ টাকা? মহিলাদের অ্যাকাউন্টে কবে আসবে ডবল ধামাকা?

৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর বাংলায় শুরু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। নবান্নে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গেই সাধারণ মানুষের মনে দানা বেঁধেছিল একাধিক প্রশ্ন— বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘যুবসাথী’র মতো প্রকল্পগুলো কি বন্ধ হয়ে যাবে? সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষেই সেই সব জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী।

প্রকল্প বন্ধ নিয়ে বড় বার্তা সোমবার নবান্নের ১৪ তলায় আয়োজিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, রাজ্যের কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। শুভেন্দুর কথায়, “চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হচ্ছে না। সে ৩০ বছর আগের হোক বা ১০ বছর আগের— সব প্রকল্পই জারি থাকবে। আমরা প্রচারের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা রক্ষা করব।”

স্বচ্ছতা ও ‘ডিবিটি’-তে জোর তবে প্রকল্প চালু থাকলেও উপভোক্তাদের তালিকায় বড়সড় ‘শুদ্ধিকরণ’ যে হতে চলেছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই পরিষ্কার। তিনি জানান, এবার থেকে সমস্ত সরকারি কাজ হবে ‘পেপারলেস’ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে। সমস্ত পোর্টাল আপডেট করা হবে এবং উপভোক্তারা সরাসরি অ্যাকাউন্টে (DBT) টাকা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেন, “স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই হবে। কোনও মৃত ব্যক্তি বা অ-ভারতীয় নাগরিক যাতে সামাজিক প্রকল্পের টাকা না পান, তা নিশ্চিত করা হবে।”

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও ৩ হাজার টাকার অপেক্ষা তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মহিলারা বর্তমানে মাসে দেড় হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিজেপি তাদের নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্রে’ এই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৩,০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’।

যদিও সোমবারের প্রথম মন্ত্রিসভায় নতুন কোনও প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, আগামী সোমবার ফের ক্যাবিনেট বৈঠক হবে। মনে করা হচ্ছে, সেই বৈঠকেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করা এবং বর্ধিত টাকা দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সরকারি কর্মীদের নজর সোমবারে কেবল সামাজিক প্রকল্পই নয়, ডিএ (DA) এবং বেতন কমিশন নিয়েও সোমবারের বৈঠকে আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে আগামী সোমবার নবান্নের পরবর্তী বৈঠকই ঠিক করে দেবে, বাংলার সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মীদের পকেটে বাড়তি খুশির খবর কবে পৌঁছাবে। আপাতত প্রকল্প বন্ধ হওয়ার আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিবার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy