১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান! ২০০ পার করে বাংলার মসনদে বিজেপি, কবে রাজতিলক?

দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গ। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ২০০-র বেশি আসন জিতে নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাংলার মসনদে আসীন হতে চলেছে বিজেপি। অন্যদিকে, গত দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এবার মাত্র ৮১ আসনেই থমকে গিয়েছে। ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই কোটি টাকার প্রশ্ন— কবে হবে শপথ গ্রহণ এবং কার মাথায় উঠবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট?

পঁচিশে বৈশাখে ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ
রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নেই বাংলায় নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হতে চলেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিশেষ দিনটির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শ ও সোনার বাংলার স্বপ্ন নিয়েই নতুন পথ চলা শুরু করবে বিজেপি সরকার। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ৯ মে অর্থাৎ ২৫শে বৈশাখ হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কলকাতার কোনো এক বড় ময়দানে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন এবং শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

কে হচ্ছেন সেই ‘ভূমিপুত্র’ মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে বিজেপির অন্দরে এখন তুমুল জল্পনা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন খাঁটি ‘ভূমিপুত্র’, যিনি বাংলা ভাষায় পারদর্শী এবং রাজ্যের মাটির সঙ্গে যার নাড়ির টান আছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের এক সরস মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে— তাঁর মতে, হবু মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ‘আমিষভোজী’ বাঙালি।

বর্তমানে এই দৌড়ে সবার আগে নাম শোনা যাচ্ছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। তবে লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের মতো দাপুটে নেতারাও। পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসছে স্বপন দাশগুপ্ত এবং উৎপল ব্রহ্মচারীর নামও। শেষ পর্যন্ত দিল্লির হাইকমান্ড ২৫শে বৈশাখের ভোরে কার নাম চূড়ান্ত করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy