বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক চরম নাটকীয় মোড় নিল। পরাজয়ের পর নৈতিকভাবে পদত্যাগ করার যে দাবি বিরোধীদের পক্ষ থেকে তোলা হচ্ছিল, তা এক ঝটকায় নস্যাৎ করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিকেলে এক কড়া বার্তায় তিনি সরাসরি জানিয়ে দিলেন, “আমি রাজভবন কেন যাব? জোর করে দখল করে যদি কেউ ভাবে আমি পদত্যাগ করব, তবে সেটা হবে না।”
নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পিছু হটার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল—কবে রাজ্যপালের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কিন্তু আজ বিকেলে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন নেত্রী। তাঁর দাবি, এই জয় স্বাভাবিক নয়, বরং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আর সেই কারণেই তিনি সহজে লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে রাজি নন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “গণতন্ত্রে মানুষের রায়ের নামে যদি জালিয়াতি হয়, তবে আমি কেন মাথা নত করব? যারা ভাবছেন গায়ের জোরে বা কারচুপি করে চেয়ার দখল করবেন, তাঁরা আমায় চেনেন না।” তাঁর এই অনমনীয় মনোভাব বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, রাজভবনের চৌকাঠ মাড়িয়ে ইস্তফা দেওয়ার পথে তিনি এখনই হাঁটছেন না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান রাজ্যে এক সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে জয়ী পক্ষ সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘পদত্যাগ না করার’ জেদ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
তৃণমূল শিবিরের একাংশের দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রতিটি বুথের হিসাব এবং কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ততক্ষণ নেত্রী তাঁর অবস্থানে অনড় থাকবেন। তবে বিরোধীরা এই মন্তব্যকে ‘পরাজিতের আস্ফালন’ বলে কটাক্ষ করেছে। এখন দেখার, রাজভবন এবং কালীঘাটের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন পথে চালিত হয়।





