১১% রিটার্ন স্রেফ চোখের ধুলো? গত ৫ বছরে নিফটি ৫০-এর আসল লাভ দেখে মাথায় হাত বিশেষজ্ঞদের!

ভারতীয় শেয়ার বাজারের মূল সূচক ‘নিফটি ৫০’ (Nifty 50) গত পাঁচ বছরে গড়ে বার্ষিক প্রায় ১১ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে— আপাতদৃষ্টিতে এই খতিয়ান দেখে যেকোনো সাধারণ লগ্নিকারীর মুখে হাসি ফুটতেই পারে। কিন্তু খাতা-কলমের এই হিসাব আর বাস্তবের ‘আসল রিটার্ন’ বা রিয়াল রিটার্নের (Real Return) মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল ফারাক। সম্প্রতি বাজার বিশেষজ্ঞদের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক মাসে ভারতের বাজারে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) বিনিয়োগ দ্রুত কমে যাওয়ার কারণে সামগ্রিক রিটার্নের ওপর এর এক বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সাধারণত মিউচুয়াল ফান্ড বা ইনডেক্স ফান্ডের বিজ্ঞাপনে যে আকর্ষণীয় রিটার্নের গ্রাফ দেখানো হয়, তা আসলে ‘নমিনাল রিটার্ন’। ডলারের নিরিখে টাকার অবমূল্যায়ন এবং বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহারের বিষয়টিকে হিসাবে রাখলে লগ্নিকারীদের প্রকৃত লাভের অঙ্কটা অনেকটাই কমে যায়।

কেন কমছে ভারতের বাজারের আসল রিটার্ন?

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের আশাহত হওয়ার পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে:

  • বিদেশি পুঁজির পলায়ন: গত কয়েক মাসে ভারতের শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি লগ্নিকারীরা রেকর্ড পরিমাণে পুঁজি তুলে নিয়েছেন। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের ওঠানামার কারণে বিদেশি সংস্থাগুলো ভারতীয় বাজার থেকে টাকা বের করে মার্কিন বন্ড বা অন্য নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বড় অঙ্কের এই পুঁজি কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিফটির পারফরম্যান্সে।

  • টাকার রেকর্ড অবমূল্যায়ন: গত ৫ বছরে মার্কিন ডলারের (US Dollar) তুলনায় ভারতীয় টাকার মান অনেকটাই পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার যত শক্তিশালী হচ্ছে, টাকার দাম তত কমছে। যেহেতু বিশ্ব বাজারে যেকোনো দেশের অর্থনীতির পারফরম্যান্স ডলারের নিরিখে মাপা হয়, তাই টাকার এই পতন নিফটির আসল বা ‘ডলার টার্মস’ রিটার্নকে অনেকটাই টেনে নিচে নামিয়ে দিয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি ও করের জাঁতাকল

এখানেই শেষ নয়, একজন সাধারণ ভারতীয় লগ্নিকারী যখন কোনো ইনডেক্স ফান্ডে টাকা রাখেন, তখন তাকে দেশের মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্সের (Capital Gains Tax) কথাও মাথায় রাখতে হয়। গত পাঁচ বছরে দেশের গড় মুদ্রাস্ফীতি যদি ৫ থেকে ৬ শতাংশের আশেপাশে থাকে, তবে ১১ শতাংশ নমিনাল রিটার্ন থেকে সেই অংশটি বাদ দিলে প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বা রিয়াল রিটার্ন দাঁড়ায় মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ। এর ওপর করের বোঝা চাপলে লগ্নিকারীর হাতে থাকা লভ্যাংশ আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ার বাজার দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন দিলেও বর্তমানের এই বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ডলার-টাকার লড়াইয়ের জেরে লগ্নিকারীদের অন্ধভাবে শুধু শতাংশের হিসাব দেখলে চলবে না। বাজারে টিকে থাকতে হলে এখন পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনা এবং রিয়াল রিটার্নের হিসাব কষে পা ফেলা অত্যন্ত জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy