ভারত কি আগামী এক দশকের মধ্যেই জাতপাত মুক্ত হতে পারবে? আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের দাবি অনুযায়ী, যদি নাগরিকরা মন থেকে জাতপাতের ভেদাভেদ মুছে ফেলেন, তবে আগামী ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যেই ভারত বৈষম্যমুক্ত সমাজে পরিণত হবে। শনিবার সঙ্ঘের শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই এক দূরদর্শী বার্তা দিলেন তিনি।
পেশা থেকে বৈষম্য: বর্ণ ব্যবস্থার বিবর্তন মোহন ভাগবত বলেন, অতীতে বর্ণ ব্যবস্থা মূলত মানুষের পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা সমাজের গভীরে প্রবেশ করে বৈষম্যের প্রাচীর গড়ে তুলেছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “এই বিভাজন দূর করতে হলে কেবল বাইরের সংস্কার নয়, মানুষের মন থেকে জাতপাতের ধারণা উপড়ে ফেলতে হবে। সমাজ যদি আন্তরিক হয়, তবে এক যুগের মধ্যেই এই অভিশাপ থেকে মুক্তি সম্ভব।”
“নরেন্দ্র ভাই থেকে আমি—সবাই একই শক্তিতে চালিত” এদিন ভাষণে আধ্যাত্মিকতা ও ভারতের শক্তির উৎস নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। ভাগবত বলেন, “নরেন্দ্র ভাই (প্রধানমন্ত্রী মোদী) থেকে শুরু করে আমরা সকলেই এক একক শক্তি দ্বারা পরিচালিত হই, আর সেই শক্তির নাম হলো ধর্ম।” তাঁর দাবি, ধর্মই মহাবিশ্বের চালিকাশক্তি এবং যতদিন ভারত এই আধ্যাত্মিক পথে চলবে, ততদিন কেউ ভারতের ‘বিশ্বগুরু’ হওয়া আটকাতে পারবে না।
সঙ্ঘের লক্ষ্য ও ব্যক্তি গঠন সঙ্ঘের কার্যপদ্ধতি নিয়ে দর্শকদের প্রশ্নের জবাবে ভাগবত জানান, আরএসএস কোনো প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করে না। সঙ্ঘ নিজে বড় হওয়ার চেয়ে সমাজকে বড় করতে চায়। তাঁর মতে, ব্যক্তি-চরিত্র গঠনের মাধ্যমেই শক্তিশালী জাতি গঠন সম্ভব। তিনি সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, “সঙ্ঘকে বুঝতে হলে কোনো তত্ত্ব নয়, সরাসরি শাখায় আসতে হবে।”
আধুনিক ভারত তার পূর্বপুরুষদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার বহন করছে বলেই বিশ্ব রাজনীতিতে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে পারছে বলে মনে করেন আরএসএস প্রধান।