বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতে হাতে গোণা কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার আগেই রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ঘোরাফেরা করছে এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। সূত্রের খবর, গেরুয়া শিবিরের অন্দরের সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে— গতবারের তুলনায় এবার রাজ্যে বিজেপির ভোট শতাংশ অন্তত ১০ শতাংশ বাড়তে চলেছে। আর যদি এই হিসাব সত্যি হয়, তবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের হ্যাটট্রিকে বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
১০ শতাংশ ভোটের অঙ্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ?
রাজনীতির পাটিগণিত বলছে, বাংলায় জয়ের ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রেই ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোটের এদিক-ওদিকের ওপর নির্ভর করে। সেখানে যদি বিজেপি এককভাবে ১০ শতাংশ ভোট বাড়াতে সক্ষম হয়, তবে বহু আসনেই তৃণমূলের জয়ের মার্জিন টপকে যাবে পদ্ম শিবির। বিশেষ করে জঙ্গলমহল, উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এই বাড়তি ভোট শাসক দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ভোট শতাংশ বাড়ার নেপথ্যে কোন কারণ?
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের একাংশ এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে মোদী ম্যাজিক কাজ করেছে। দুর্নীতি ইস্যু এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে হাতিয়ার করে যে প্রচার চালানো হয়েছিল, তার প্রতিফলন ইভিএম-এ দেখা যাবে বলে আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবির। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “মানুষ নিঃশব্দে বিপ্লব ঘটিয়েছে, যার ফল ৪ মে সবাই দেখতে পাবেন।”
তৃণমূলের পাল্টা কৌশল
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই তত্ত্বকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলোর ওপর মানুষের ভরসা অটুট রয়েছে। বরং বিজেপির ভোট বাড়বে না কি আরও কমবে, সেটাই দেখার বিষয়। ৪ মে বেলা বাড়লেই বোঝা যাবে— ১০ শতাংশের এই ‘ম্যাজিক’ কি সত্যিই নবান্নের পথ প্রশস্ত করবে, না কি তা কেবল রাজনৈতিক জল্পনা হয়েই থেকে যাবে।
৪ মে ভোটের প্রতিটি মুহূর্তের দ্রুততম আপডেট এবং বিস্তারিত ফলাফল জানতে চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে। ফলো করুন আমাদের চ্যানেল।





