একদিকে কাঠফাটা রোদ আর অসহ্য গরম, অন্যদিকে দেশের বেশ কিছু জায়গায় হঠাৎ শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া আর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণের মাঝেই এবার বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল ভারতীয় মৌসম ভবন (IMD)। সাধারণ মানুষের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে বর্ষার আগমনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করল আবহাওয়া দপ্তর।
কবে আসছে বর্ষা? মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর মে মাসের মাঝামাঝি সময়েই দেশের মূল ভূখণ্ডে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার প্রবেশ ঘটতে পারে। সাধারণত কেরালায় বর্ষা আসার আগে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে বর্ষার দেখা মেলে। এবারও সেই ধারাই বজায় থাকতে চলেছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। ফলে জুনের শুরুতেই দেশের একটি বড় অংশে বৃষ্টির দাপট শুরু হতে পারে।
আকস্মিক আবহাওয়া বদলের চিত্র: বর্তমানে দেশের ভৌগোলিক চিত্রটি বেশ বিচিত্র। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে যখন তাপপ্রবাহ বা ‘লু’ বইছে, তখন পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে কালবৈশাখী ও আকস্মিক বৃষ্টির দাপট লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় রয়েছে। তবে বর্ষার আগমনের খবরটি কৃষিপ্রধান ভারতের জন্য এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
কৃষকদের স্বস্তি: আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এবার বর্ষা স্বাভাবিক হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে দাবদাহের তীব্রতা অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে খরিফ শস্য চাষের জন্য যে পরিমাণ জলের প্রয়োজন, তার ঘাটতি হবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।
তবে বর্ষা আসার আগে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। এখন দেখার, ক্যালেন্ডারের হিসেব মেনে মে-র মাঝামাঝি সময়েই প্রকৃতি শান্ত হয় কি না।





