রাজ্যসভার মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর মেজাজ হারিয়ে সম্প্রতি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি। তবে এবার সেই বিতর্ক সরিয়ে রেখেই একেবারে খোশমেজাজে ধরা দিলেন বাবুল সুপ্রিয়। সোমবার রাজ্যসভার শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর কার্যত আবেগঘন হয়ে পড়লেন তিনি। কেন বিধানসভা ছেড়ে ফের দিল্লির রাজনীতিতে ফিরছেন, সেই ‘সিক্রেট’ নিজেই ফাঁস করলেন গায়ক-রাজনীতিবিদ।
মুম্বই ফেরার পরিকল্পনা ছিল বাবুলের?
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাবুল সুপ্রিয় জানান, তাঁর লক্ষ্য ছিল রাজনীতি থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে ফের সঙ্গীতের জগতে ফিরে যাওয়া। তিনি বলেন:
“আমি মমতা দিদি এবং অভিষেককে অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই। এতদিন বলতে পারিনি, তবে আজ বলছি— পাশে থাকা কাকে বলে তা ওঁরা প্রমাণ করেছেন। আমি ডেরেক ও’ব্রায়েনের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম যে, আগামী ১০ বছর আমি শুধু সঙ্গীতকে দিতে চাই। মুম্বই ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল আমার।”
কেন নিতে চেয়েছিলেন রাজনীতির থেকে বিরতি?
বাবুলের মতে, তিনি বর্তমানে তাঁর সঙ্গীতের ‘সেরা ফর্মে’ রয়েছেন। বয়স বাড়লে গানের সেই আবেদন থাকবে না বলেই তাঁর আশঙ্কা ছিল। তিনি চেয়েছিলেন ৫-১০ বছরের একটি বিরতি নিতে। বালিগঞ্জের ভোটাররাও জানতেন যে তিনি আর ভোটে দাঁড়াতে আগ্রহী নন। কিন্তু তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের এই ‘সারপ্রাইজ’ সিদ্ধান্ত তাঁর সমস্ত পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে।
সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রত্যাশা
সংসদের পরিবেশে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে বাবুল বলেন, “ওখানকার পরিবেশ আমার খুব চেনা। রাজ্যসভায় যে ধরনের উন্নত মানের বিতর্ক হয়, তা আমি পছন্দ করি। দিদিও আমায় আশ্বস্ত করেছেন এই বলে যে— ‘মন খুলে গান গাও’।”
সমালোচকদের যোগ্য জবাব
দলের একাংশ বা বিরোধীদের পক্ষ থেকে ওঠা সমালোচনার জবাবে বাবুল সরাসরি বলেন যে, তাঁর কাজের খতিয়ান বা ‘রিপোর্ট কার্ড’ তাঁর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের সেই কার্ড দেখিয়েই জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।