১০ দিন ধরে চলে পুজো, সন্ধ্যায় বসে চাঁদের হাট! পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর গ্রামরক্ষী বাহিনীর সর্বজনীন পুজোয় বিশেষ কী আছে?

দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে কালীক্ষেত্র বাংলার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরও মেতে উঠেছে শ্যামা মায়ের আরাধনায়। এই জেলা জুড়ে যেমন ছড়িয়ে আছে বিগ বাজেট থিমের পুজো, তেমনই সাবেকি ও বনেদি বাড়ির পুজোরও কমতি নেই। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো দাসপুর গ্রামরক্ষী বাহিনীর সর্বজনীন শ্যামা পুজো, যা এবার দেড়শো তম বর্ষে পদার্পণ করল।

১০ দিনের উৎসব ও চাঁদের হাট

দাসপুর গ্রামরক্ষী বাহিনীর এই পুজো শুধু একদিনের নয়, এখানে দশ দিন ধরে চলে মায়ের আরাধনা এবং সেই সঙ্গে থাকে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা হলেই পুজো প্রাঙ্গণে বসে যায় চাঁদের হাট, যা স্থানীয়দের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ।

মায়ের আরাধনার সঙ্গে সমাজসেবা

এই পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামরক্ষী বাহিনী পুজো কমিটি প্রতি বছরই সামাজিক কাজে এক নজির গড়ে তোলে। এই বছর তাঁদের কর্মসূচিতে রয়েছে:

নরনারায়ণ সেবা: প্রায় দু’হাজার মানুষের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।

দুস্থদের পাশে: পাঁচশো দুঃস্থ মানুষকে শীত নিরাময়ে কম্বল ও মশার হাত থেকে বাঁচাতে মশারি বিতরণের মতো সমাজ সেবামূলক কাজ করা হবে।

ক্রীড়া ও সংস্কৃতি: বাচ্চাদের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়।

অর্থাৎ সংস্কৃতি, ক্রীড়া, সামাজিক দায়িত্ব থেকে মাতৃ আরাধনা— সবেতেই সমানভাবে দৃষ্টিপাত করেন এই উদ্যোক্তারা। দেবী কালীর আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের জনসেবামূলক কাজ, পশ্চিম মেদিনীপুরের এই শতাব্দী প্রাচীন পুজোকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy