পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। নবান্নের চোদ্দ তলায় এখন নতুন অধিপতি শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার শপথ গ্রহণের পর থেকেই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল। সেই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) প্রথম পোস্টটি করলেন তিনি। আর সেই প্রথম পোস্টেই স্পষ্ট করে দিলেন, আগামী পাঁচ বছর তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য বা অগ্রাধিকার ঠিক কী হতে চলেছে।
দীর্ঘ লড়াই এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলার মসনদে বসার পর শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রথম বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তিনি কেবল শুভেচ্ছার উত্তর দেননি, বরং তাঁর শাসনকালের একটি নীল নকশাও তুলে ধরেছেন এই একটি পোস্টের মাধ্যমে।
কী লিখলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী?
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন যে, তাঁর সরকারের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য হবে ‘সুশাসন এবং স্বচ্ছতা’। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁর প্রথম কাজ। পোস্টে তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার উন্নতির ওপর।
শুভেন্দু লিখেছেন, “বাংলার প্রতিটি মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে আজ এক নতুন পথ চলা শুরু হল। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার— উন্নয়ন হবে সবার জন্য, আর সরকার চলবে আইনের পথে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়াই আমার প্রধান সংকল্প।”
অ্যাকশন মোডের ইঙ্গিত
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর এই পোস্ট এবং নবান্নে পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই ‘ফ্রন্ট ফুটে’ খেলতে চাইছেন। আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি নির্বাচনী প্রচারে দিয়েছিলেন, এক্স হ্যান্ডেলের বার্তাতেও তারই প্রতিফলন দেখা গেল।
বিকেল গড়াতেই যেভাবে তিনি একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছেন, তাতে পরিষ্কার যে কথা কম এবং কাজে বেশি বিশ্বাসী হতে চাইছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এখন সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক মহলের নজর এটাই যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কতটা দ্রুত পদক্ষেপ নেন।





