বন্ধু, পরিবার বা অফিসের কাজ—যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এখন হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp)। ছবি, ভিডিয়ো, ফাইল আদান-প্রদান বা ভয়েস নোটে এই প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য কয়েকটি ভুলের কারণে আপনার প্রিয় এই অ্যাকাউন্টটি চিরতরে নিষিদ্ধ (Permanent Ban) হতে পারে? এমনকি ওই নির্দিষ্ট ফোন নম্বরের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আর কখনই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।
হোয়াটসঅ্যাপ অফিসিয়াল হেল্প সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটান, খারাপ উদ্দেশে ব্যবহার করেন অথবা তাদের টার্মস ও কন্ডিশনের নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে সেই অ্যাকাউন্টগুলি পুরোপুরিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ থেকে আজীবনের জন্য ব্যান হওয়ার ৪টি কারণ:
-
আন-অফিসিয়াল ও মডিফায়েড হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার: অনেকেই বিভিন্ন থার্ড পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল ভার্সন মডিফাই করেন বা কোডিং বদলে দেন। GB হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য আন-অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করলে আপনার অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে ব্যান হতে পারে।
-
স্প্যাম মেসেজ বাল্ক ফরোয়ার্ড করা: স্প্যাম মেসেজে প্রায়শই প্রতারণার লিঙ্ক বা ক্ষতিকারক তথ্য থাকে। এই ধরনের স্প্যাম মেসেজ বা লিঙ্ক যদি আপনি বাল্ক আকারে (অতিরিক্ত সংখ্যায়) ফরোয়ার্ড করতে থাকেন, তবে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যালগরিদম আপনাকে ম্যালিশিয়াস ব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত করবে এবং অ্যাকাউন্ট ব্যান হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সন্দেহজনক লিঙ্ক ফরোয়ার্ড করা থেকে বিরত থাকুন।
-
হুমকি বা থ্রেট মেসেজ পাঠানো: হোয়াটসঅ্যাপের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনের মধ্যে রয়েছে যে কাউকে হুমকি বা থ্রেট মেসেজ (Threat Message) পাঠানো সম্পূর্ণ অসমর্থনযোগ্য কাজ। যদি আপনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কাউকে হুমকি দেন এবং সেই ব্যক্তি আপনার মেসেজ রিপোর্ট করেন, তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টটি দ্রুত স্থায়ীভাবে ব্লক হতে পারে।
-
ওয়ার্নিং বা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা: কমিউনিটি গাইডলাইন বা প্ল্যাটফর্মের নিয়মাবলী না মানলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে প্রথমে সতর্কতামূলক মেসেজ (Warning Message) পাঠাতে শুরু করে। বারবার ওয়ার্নিং মেসেজ পাঠানোর পরও যদি সেই নির্দেশ না মানা হয় এবং প্ল্যাটফর্মটির শর্তাবলী লঙ্ঘন করা হয়, তাহলে সেই অ্যাকাউন্টটি আজীবনের জন্য ব্লক করে দেওয়া হতে পারে।