কোনও নববিবাহিতা কি একটি অচেনা হোটেলে নিজের আস্ত স্যুটকেস, মঙ্গলসূত্র ও বিয়ের আংটি ফেলে যেতে পারে? এমন ঘটনা কার্যতই বিরল, আর ঠিক এই অস্বাভাবিক ঘটনাই মেঘালয়ের চাঞ্চল্যকর হানিমুন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র যুগিয়েছে। এই সূত্রকে ভিত্তি করেই তদন্ত চালিয়ে পুলিশ খুনের রহস্য ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।
হোমস্টেতে পরিত্যক্ত সামগ্রী, ট্রেকিংয়ের আড়ালে ষড়যন্ত্র
মেঘালয় মধুচন্দ্রিমা-কাণ্ডে জানা গেছে, সোনম ও রাজা সেখানকার পূর্ব খাসি হিলের সোহরায় একটি হোমস্টেতে রাত কাটিয়েছিলেন। এরপর ২২ মে সেখান থেকে তাদের নংরিয়াত গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ৩ হাজার সিঁড়ি টপকে ওই গ্রামে পৌঁছানোর জন্যই সোনম তার ট্রলিব্যাগ হোমস্টেতে রেখে গিয়েছিলেন।
ট্রেকিংয়ের পর সেদিন রাত তারা নংরিয়াতেই কাটান। পরদিন অর্থাৎ ২৩ মে আবার ট্রেকিং করে তাদের সোহরায় ফেরার কথা ছিল। সেই সূত্র ধরেই ট্রেকিংয়ের পর নিজেদের ভাড়া করা স্কুটার নিয়ে সোনম ও রাজা ওয়েসিডং জলপ্রপাতের দিকে রওনা দেন। আর তারপরের ঘটনা তো এখন সবার কাছে পরিষ্কার – সেখানেই সেলফি তোলার বাহানায় নৃশংসভাবে খুন হন রাজা।
‘বিরল’ ঘটনায় সন্দেহ ঘনীভূত: পুলিশি তদন্তের মোড়
নংগ্রাংয়ের এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, “সোহরার হোমস্টে থেকে সোনমের মঙ্গলসূত্র ও আংটি উদ্ধার করা হয়। একজন বিবাহিত মহিলা তার গয়না ফেলে যাচ্ছেন, এটাই আমাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করে। এরপর সেই মতোই তদন্ত চলে।” পুলিশের কাছে এই ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই সোনমের বিরুদ্ধে সন্দেহের জাল বুনতে সাহায্য করে।
গা-ঢাকা থেকে আত্মসমর্পণ: ধাবার মালিকের ভূমিকা
উল্লেখ্য, ২৩ মে রাজা-খুনের পর গা-ঢাকা দিয়েছিলেন সোনম। এর ঠিক ১৬ দিন পর, সব বিভ্রান্তি কাটিয়ে অবশেষে মেলে তার হদিশ। ৯ জুন মধ্যরাতে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের একটি ধাবায় খোঁজ মেলে সোনমের। সেই ধাবার মালিকই তাকে দেখে চিনতে পারেন এবং খবর দেন পুলিশকে। একইসাথে, সোনম নিজেই ধাবার মালিকের ফোন নিয়ে তার বাড়িতে ফোন করেন। তখন সোনমের বাড়ির লোক আবার ফোন করে ইন্দোর থানায়, এবং সেখান থেকে ফোন যায় উত্তর প্রদেশের গাজিপুর থানায়। এরপর সোনমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং পুলিশের কাছে সবটা স্বীকার করেন।
এই ‘মঙ্গলসূত্র’ রহস্য এবং সোনমের সামান্য ভুলই যে এমন একটি জটিল হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে সাহায্য করেছে, তা সত্যিই অবাক করার মতো।





