পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রের মাঝে ভারতের জন্য এল স্বস্তির খবর। যুদ্ধের মেঘের মাঝেই হরমুজ প্রণালীতে ভারতের জ্বালানি আমদানির পথ প্রশস্ত করল ইরান। শনিবার আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় চরম অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় পতাকাবাহী দু’টি বিশাল এলপিজি (LPG) ট্যাঙ্কার নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
যুদ্ধক্লান্ত জলপথে ভারতের বিশেষ ছাড়? জানা গিয়েছে, BW ELM এবং BW TYR নামের দুটি ট্যাঙ্কার প্রায় ৯০ হাজার টন রান্নার গ্যাস নিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। প্রায় ২৭ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে জাহাজ দুটি স্পর্শকাতর এলাকা পার করে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা চরম অনিশ্চয়তার মাঝে এই ঘটনা ভারতের ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’র ক্ষেত্রে এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ‘বন্ধু’ তালিকায় ভারত ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি জানিয়েছেন, ভারত সহ মোট পাঁচটি দেশকে ‘বিশেষ বন্ধু’র মর্যাদা দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় ভারতের সঙ্গে রয়েছে চিন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তান। তবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের শত্রু শিবিরের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না।
কেন এই স্বস্তি জরুরি ছিল? ভারতের আমদানিকৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৫০ শতাংশ আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই। গত কয়েক সপ্তাহের সংকটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রান্নার গ্যাসের যোগানে টান পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। হোটেল-রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর—সর্বত্রই চড়া দাম ও জোগানের ঘাটতির কালো ছায়া ঘনিয়ে আসছিল। ইরানের এই সিদ্ধান্তে সেই সংকট আপাতত কাটতে চলেছে।
অপেক্ষায় আরও ২০টি জাহাজ খুশির খবরের পাশাপাশি কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে। এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) সংলগ্ন জলসীমায় আটকে রয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ৫টি জাহাজ অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) নিয়ে ইরানের গ্রিন সিগনালের অপেক্ষায়। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে এই জাহাজগুলিকে দ্রুত দেশে ফেরানোই এখন দিল্লির প্রধান লক্ষ্য।