মে মাসের শেষ সপ্তাহে এসে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেতে চলেছেন দক্ষিণবঙ্গবাসী। গত কয়েকদিন ধরে চলা অসহ্য আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি এবং দাবদাহ থেকে মুক্তি দিতে শীঘ্রই রাজ্যে হানা দিতে চলেছে কালবৈশাখী। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বুধবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আগামী শনিবারের মধ্যেই তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। তবে এই বৃষ্টি নামার আগে সোম ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গবাসীকে তীব্র গরমের মোকাবিলা করতেই হবে।
আজ কলকাতার আবহাওয়া:
সোমবার সকাল থেকেই তিলোত্তমার আকাশে চড়া রোদ থাকলেও মাঝে মাঝে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা শহরে গরমের দাপট অব্যাহত থাকবে। আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.১ ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রয়েছে ৩৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। তবে বুধবার থেকেই কলকাতার আকাশ ও আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।
ঝড়-বৃষ্টির কবলে কোন কোন জেলা?
রাজ্যের আবহাওয়ার রূপ বদলাতে শুরু করবে মঙ্গলবারের পর থেকে। সোম ও মঙ্গলবার মূলত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতির জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের পর কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে আসল খেলা শুরু হবে বুধবার থেকে।
বুধবার মূলত নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ের দাপট বেশি থাকবে। হাওয়া অফিসের মতে, ঝড়ের গতিবেগ কালবৈশাখীর মতো বিধ্বংসী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জেলাগুলিতে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি:
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির ধারা কিছুটা ভিন্ন। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ সোমবার আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমলেও, সপ্তাহের শেষ দিকে সেখানে ফের বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে, আগামী কয়েকদিনে রাজ্যের সামগ্রিক আবহাওয়ায় একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা গরমের দাপটকে অনেকটাই ফিকে করে দেবে।





